জোৎস্না রায়
আজ রবিবার। আজ শ্রমণাদের বাড়ি সান্ধ্য আসর বসবে। তাই সারাদিন রানীকে সঙ্গে নিয়ে নানা রকম জল খাবারের ব্যবস্থা করেছে। বিকেল হতে শ্রমণা স্নান সেরে শোবার ঘরে তৈরি হচ্ছিল। রানী ঘর দুয়ার ঝকঝকে করে মুছে জানলা, দরজা, শোফায় কাচা পরদা ইস্ত্রি করে লাগাচ্ছে। কিন্তু অমিতাভর কোন তাড়া নেই, সে সোফায় গা এলিয়ে রবিবাসরীয় ধারাবাহিক গোয়েন্দা গল্প পড়ছিল। পড়া থামিয়ে ‘রানী আমাকে এককাপ কড়া করে চা বানিয়ে দে তো; বলেই আমার গল্পে ডুব দিলো। রানীর হাতের কাজ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। এতো যত্ন সহকারে ঘর সাজিয়েছে যে প্রশংসা না করে পারা যায় না। রজনীগন্ধাগুলো ফুলদানীতে সাজিয়ে দিয়ে, ‘এখুনি দিচ্ছি বলে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো। হঠাৎ ডোরবেলটা বেজে উঠলো, কিন্তু অমিতাভ গোয়েন্দা গল্পে এতো মশগুল যে ওঠার কোন লক্ষণই দেখা গেল না। শ্রমণা বুঝতে পেরে ভিতর থেকে এসে দরজাটা খুললো। দরজার ফ্রেমে রাজর্ষী ব্যানার্জী হাসি মুখে দাঁড়িয়ে। শ্রমণাকে দেখেই হাত তুলে নমস্কার করল, শ্রমণাও প্রতি নমস্কার করে রাজর্ষীকে ভিতরে আসতে বললো। অমিতাভকে ছেলেটার সম্বন্ধে বলাছিল, পরিচয় পর্ব সমাধা হোল। রাজবী একবার ঘরটার চারদিকে চোখ বোলালো। এতো সুন্দর রুচিসম্মত ভাবে সাজানো ঘর খুব কম দেখেছে। বাহুল্য বর্জিত আন্তরিকতার ছোয়া। সে ঘর দেখতে দেখতে জানলা দরজার পর্দা, সোফার কভার কর্পেট সবই জরিপ করছিলো। শ্রমণা সবই খেয়াল করছিলো, অমিতাভটা ফ্রেস হতে গেছে তো গেছেই। রাজর্ষী শ্রমণার দিকে নজর ফেরালো। বললো, “ম্যাম আপনারা কি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কিনে ফেলেছেন? আমার অবশ্য গত সপ্তাহে আসার কথা ছিলো। কিন্তু কোম্পানীর কাজে হেড অফিস মুম্বাই যেতে হয়েছিলো তাই আসতে পরিনি,’ এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো। ততোক্ষণে অমিতাভ ফ্রেস হয়ে এসে বসেছে। সেও রাজবীর কথা শুনছিলো। রানী রান্নাঘর থেকে রাজস্বীর গলা পেয়েছিলো। ওকে কিছুই বলতে হয় না। সে একটা সুদৃশ্য ট্রেতে তিন কাপ চা আর প্লেটে কিছু নোনতা খাবার এনে সামনের টেবিলে রাখলো, শ্রমণা এক কাপ চা রাজবীর দিকে এগিয়ে দিতে দিতে মুচকি হেসে বললো, আপনি ঠিকই ধরেছেন ভাই। আমার একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বহুদিন থেকেই আছে,’ রানীর একটা হাত
ধরে বললো, এই আমাদের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। রানী ভ্যাকুয়াম ক্লিনার!!’
সমাপ্ত……
