দেশীয় বাজারে সোয়া মিলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার এক নির্দেশ জারি করে ২০২২-এর ৩০ জুন পর্যন্ত সোয়া মিলের মজুতভাণ্ডার স্থির করে দিয়েছে। কেন্দ্রের জারি করা ‘সোয়া মিল মজুত নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ২০২১’ ২৩ ডিসেম্বর থেকেই অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এই নির্দেশে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় গবাদি পশুপালন ও ডেয়ারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেই সোয়া মিলের নির্দিষ্ট মজুত সীমা স্থির করা হয়েছে।
নিম্নলিখিত ভিত্তিতে সোয়া মিলের নির্দিষ্ট মজুত সীমা নির্ধারিত হয়েছে :
সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য যাবতীয় সোয়া মিলের মজুত সীমা ২০২২-এর ৩০ জুন পর্যন্ত নিম্নলিখিত ভিত্তিতে স্থির হয়েছে;
*প্ল্যান্ট/মিলার/প্রসেসর : সর্বাধিক ৯০ দিনের উৎপাদন মজুত করতে পারবে। তবে, প্ল্যান্ট/মিলার/প্রসেসরদের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে মজুতের বিষয়টি স্থির হবে। একইসঙ্গে এদের স্টোরেজ লোকেশন বা মজুতভাণ্ডারের স্থানের নাম ঘোষণা করতে হবে।
*ট্রেডিং কোম্পানি/ট্রেডার/প্রাইভেট চৌপল : কেবল সরকারি নথিভুক্ত সংস্থাগুলিই সর্বাধিক ১৬০ মেট্রিক টন পর্যন্ত সোয়া মিল মজুত রাখতে পারে। তবে, কোথায় তা মজুত রয়েছে সেই জায়গার নাম ঘোষণা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা মজুতের পরিমাণ যদি সদ্য ঘোষিত সর্বাধিক সীমার বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত মজুতের পরিমাণের বিষয়টি কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তরের ওয়েবসাইটে জানাতে হবে। এমনকি, বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত মজুতের পরিমাণ ঘোষিত সীমার মধ্যে আনতে হবে।
দপ্তরের উপরোক্ত পোর্টালে সোয়া মিলের মজুতের বিষয়টি নিয়মিত জানাতে হবে। কেন্দ্রীয় গবাদি পশুপালন ও ডেয়ারি দপ্তর নিয়মিতভাবে পোর্টালে উল্লেখিত তথ্যের ওপর নজর রাখবে। প্রয়োজনসাপেক্ষে গবাদি পশুপালন ও ডেয়ারি দপ্তর কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সরকারের এই সমস্ত পদক্ষেপের ফলে বাজারে সোয়া মিলের যোগান যেমন বাড়বে, তেমনই দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। একইভাবে, বেআইনি মজুত ও কালোবাজারির অসাধু পন্থা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পক্ষান্তরে, বাজারে সোয়াবিন তেলের দাম ধীরে ধীরে কমবে।
