লেখক: রাজকুমার শেখ , অলঙ্করণ : দিয়া সরদার

সামনের আয়নাটায় এত স্মৃতি জড়িয়ে যে মালেকা কিছুতেই সে দিকে চোখ ফেরাতে পারছে না। গোটা বেডরুম জুড়ে শাকিলের উপস্থিতি এখনো বিদ্যমান। শাকিলের চলে যাওয়াটা হঠাৎই ছিল। আসলে প্রতিটি মৃত্যুই হঠাৎই ঘটে। মানুষ মন থেকে মেনে নিতে পারে না। শাকিল তেমনি চলে গেছে মালেকাকে একা ফেলে। ওদের সুবিশাল বাড়িটাতে এখন কেউই থাকে না। ওদের বিয়েটা কোনো ঘটা করে হয়নি। হঠাৎই একদিন বিগ বাজারের সিঁড়িতে শাকিল মালেকাকে আবিষ্কার করে। তারপর থেকেই সম্পর্কটা একটু একটু করে গভীর হয়। তারপর একদিন দুম করে বিয়ে হয়ে যায়।

শাকিল একাই। মা- আব্বা চলে গেছে অনেক আগেই। শাকিল ভালো চাকরি করত। ওর মৃত্যুটা মালেকা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। যদি ওর গর্ভে একটি সন্তান আসত? তাহলে তাকে নিয়ে ওর দিন বছর কেটে যেত। কিন্তু মানুষটি তাকে সুখ দেবার আগেই তার মনের সব ভালোবাসার সুতো ছিঁড়ে চলে গেল। মালেকা একা বেডরুমে বসে কাঁদছে। তার দুচোখে এখনো কত পানি জমে আছে কে জানে! তার কান্না শেষ হবে না মনে হয়। হাশরের দিন পর্যন্ত হয়তো ও কাঁদবে। এ ঘরে এলেই তার সব স্মৃতি জেগে ওঠে। যেন মনে হয় এখনই শাকিল এসে তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করবে। এতদিন পরও তার মনের ব্যথাটা কমেনি। শূন্য বুকটা খাঁ খাঁ করে। মন পুড়ে যায় ভাবনায়।

এমন সময় হঠাৎ ওর চোখ পড়ে আয়নায়। যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে সাজতে ভালোবাসত। শাকিল কখনও কখনও এসে তাকে জড়িয়ে ধরে আদরে আদরে ভরিয়ে দিত। প্রতিটি মুহূর্ত যেন এই আয়নায় লেগে আছে। তাদের সুখগুলো দেখেছে এই আয়না।

খাট ছেড়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় মালেকা আয়নার সামনে। দেখছে তার প্রথম টিপটা এখনো আয়নার এককোণে যত্নে সাঁটানো। এই টিপটা শাকিলই তার কপালে থেকে তুলে সাঁটিয়ে দিয়েছিল আয়নায়।

মালেকা  কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর টিপটা আস্তে আস্তে তুলে তার কপালে লাগায়।  টিপটা পরার পর আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে।

টিপটা কেমন যেন কপালে মাথায় জ্বলন ধরিয়েছে। যেন তার কপাল পুড়ে যাবে। এমন সময় হঠাৎ আয়নায় শাকিলকে দেখা যায়। শাকিল হাত দিয়ে তার টিপ কপাল থেকে তুলে ফেলে। মালেকা এখন শূন্য আয়না ছাড়া কিছু নয়।