প্রশান্ত ডোম

প্রথম পর্বের পর…..

গুরুর নির্দেশে খ্যাত-অখ্যাত বহু তীর্থ এবং সিদ্ধ পীঠ দর্শন করার পর গোরক্ষনাথ হিমালয়ের তলদেশ থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে একটি মনোরম স্থানে এসে হাজির হলেন। তার চোখের সামনেই একটি সুন্দর সরোবর। তার মন বলছে যে এটি তার সাধনার জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র। কিন্তু এখানেই তিনি সাধনা ক্ষেত্র বানাবেন কিনা তাতে সামান্য মনে সংশয়। ঠিক তখনই মৎসেন্দ্রনাথের আকাশবাণী ধ্বনিত হল, এটিই হচ্ছে তার সাধনা স্থল ‘মানস সরোবর।এখানে তিনি কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।

ইতিমধ্যে গুরুর কৃপায় এবং দেবীর বরে অষ্টসিদ্ধিও লাভ করেছিলেন। কথিত আছে এই সরোবরের তীরে দীর্ঘ ১২ বছর কঠোর সাধনার পর তিনি দেবাদিদেব মহাদেব বর লাভ করেন। গোরখনাথের সাধক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাহিনী চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং খুব কম দিনের মধ্যেই এই স্থানটি সিদ্ধ সাধকের নাম অনুসারে পরিচিত হয়ে পড়ে ‘গোরখপুর’ নামে।

গোরখনাথী যোগীরা শিবের রুদ্ররূপ, ভয়াল রূপের উপাসনাই করে থাকেন। কালভৈরবের বিগ্রহ তাদের অতি প্রিয়। দেবাদিদেব মহাদেব এই জগতের স্রষ্টা, জীবের চৈতন্য দাতা। তাই নাথযোগীরা মঙ্গল দাতা পুরুষ রূপেও তাকে আরাধনা করেন।অনেক সময় নাথধর্মের তত্ত্ব ও সাধনা সঙ্গে বৌদ্ধতন্ত্র সাদৃশ্য দেখে অনেকেই ধারণা করেন যে বৌদ্ধ ধর্ম থেকে এটা কালক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে শৈবধর্মের রুপ নিয়েছে। তবে এর কোনো সত্যতা নেই। কারণ এটাই বিশ্বাস করা হয় যে ধর্মের সুপ্রাচীন সিদ্ধমত থেকেই এটি তৈরি হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের যোগীরা রসায়ন ও হঠযোগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাই এই সাধনাকে বলা হতো— ‘কায়াসাধন’ এবং এই সাধনার বলে সাধকের দেহ হয়ে যেত পরিণামবিহীন। ফলে তিনি লাভ করতেন জরামরণহীন অমর জীবন।

সমাপ্ত……

সূত্র: ভারতের সাধক (সপ্তম খন্ড)