প্রবীর আচার্য

চতুর্থ পর্বের পর…..

আসল ভূনিম্নস্থ স্তরের লবণাক্ত জলে সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাদ্য লবণের মাত্রাটা বেশি থাকলেও আনুপাতিক হারে অন্যান্য লবণের মাত্রা বাড়ে না। কিন্তু সামুদ্রিক লবণে ক্লোরাইড, আয়োডাইড ছাড়াও ফ্লুরাইড লবণেও অতি অল্প পরিমাণ থাকে। ওই অতি অল্প পরিমাণ ফ্লুরাইড লবণে দাঁতের এনামেলের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে তৈরি লবণের সঙ্গে ফ্লুরাইড থাকে না। ফলে দাঁতের মাজন তৈরি সংস্থাগুলি বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করলো, ফ্লুরাইডযুক্ত মাজন ব্যবহার করুন। এক ঢিলে তিন পাখি— পরিশুদ্ধ লবণ, আয়োডাইজড লবণ এবং ফ্লুরাইড যুক্ত মাজন। কে মানুষকে বোঝাবে, প্রাকৃতিক উপায়ে তথাকথিত অপরিশুদ্ধ সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করলে আর এসবের দরকার হয় না। কারণ সামুদ্রিক উদ্ভিদরা তলদশের মাটি

থেকে আয়োডিন সংগ্রহ করে। সে সব উদ্ভিদের দেহ থেকেই সমুদ্রের জলে আয়োডিন মেশে।

সমুদ্রের জল কম বশি প্রায় ২৬/২৭টি মৌলপদার্থ লবণ আকার দ্রবীভূত থাকে। স্থানভেদে সমুদ্রের জলে এইসব লবণের মাত্রা কম বেশি হয়। আমাদের চেনা যেসব ধাতুর লবণ থাকে সেগুলি হল সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। আর যেসব অধাতু থাকে সেগুলি হল ক্লোরিন, সালফার, ব্রোমিন, ফুরিন, কার্বন, আয়োডিন, আর্সেনিক ইত্যাদি। এক লিটার সমুদ্রের জলে বাষ্পীভূত হলে যেসব লবণ পড়ে থাকে তার হিসাব মোটামুটি এই রকম। সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাদ্য লবণ ২৬/২৭ গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড ৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ১ গ্রাম, পটাসিয়াম ক্লোরাইড ৭২০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৩ গ্রাম, পটাসিয়াম বা সোডিয়াম আয়োডাইড ১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম বা সোডিয়াম ফ্লুরাইড ১.৫ মিলিগ্রাম ইত্যাদি। এই পটাসিয়াম বা সোডিয়াম আয়োডাইড থেকেই আমাদের দেহে আয়োডিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।

ক্রমশ……