সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

সাহিত্যিক সৌগত চট্টোপাধ্যায় সাধারণত নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে ঘোরাফেরা করেন। বয়স সত্তরের গণ্ডীতে ঢুকলেও বিভিন্ন সাহিত্যসভা, সেমিনার, প্রকাশকের আড্ডাঘর ইত্যাদি যে কোন জায়গায় যাতায়াতে দিনে তো বটেই রাত্রিতেও স্টিয়ারিং এ বসলে তিনি ভীষণরকম স্বাভাবিক থাকেন, কোনই অসুবিধা হয় না। কিন্তু আজ ডায়মন্ডহারবারের কাছাকাছি একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে ফেরার সময় তিনি কেমন যেন বারবার অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছেন। নিজের মনকে নিজের মধ্যে ফেরানো তার যেন খুব কষ্টের হচ্ছে।

সাহিত্যিক হিসেবে প্রথিতযশা হলেও সৌগতবাবু ভীষণরকম মিষ্টভাষী নিরহংকারী ও অমায়িক। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিভিন্ন পুজো কমিটির ডাকে তাদের প্রতিমা উন্মোচন করা থেকে শুরু করে, ‘পুজোর সেরার সেরা’ নির্বাচনের বিচারকের প্যানেলেও থেকেছেন। তাছাড়া আশেপাশের পাড়ায় রক্তদান শিবির তো আছেই। ডাকলেই তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। তবে ইদানীং বয়সের কারণে শুধু সাহিত্যসভা ছাড়া সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন । ব্যতিক্রম আজকের এই অনুষ্ঠান, সাহিত্যিক বন্ধু সুশান্তর কাছ থেকে বৃদ্ধাশ্রম ‘শান্তিনীড়’এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হবার আমন্ত্রণ পেয়ে ‘না’ করেননি। কিছুক্ষণ কিছু ভেবে বলেছিলেন, ‘চিন্তা করবেন না, সময়মত পৌঁছে যাব।’ বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের চেহারার বেশভূষার পার্থক্য চোখে পড়লেও চোখমুখের ভাষা মোটামুটি একইরকম। বলে দিতে হয় না তাদের ব্যথাতুর হৃদয়ের ফল্গুনদীতে চোরা রক্তের স্রোত বয়ে চলেছে অহরহ।

ক্রমশ…..