সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রথম পর্বের পর…..
ছোট একটা সভা হল। আশ্রমের প্রায় সব আবাসিক তাদের রাগ দুঃখ অভিমানের কথা বললেন। সৌগতবাবু তাঁর নাতিদীর্ঘ ভাষণে দীর্ঘ চল্লিশ বছরের ব্যবধানে তার দ্বিতীয়বার এই আশ্রমে পা রাখার কথা জানালেন। প্রথমবারের আসার কারণটি না জানালেও এই সময়ের মধ্যে “শান্তিনীড়” আশ্রম বেশ সুনাম করেছে তার জন্য সাধুবাদ জানালেন। একটা শোকের আবহে সভা শেষ হল। সবাইকে বিদায় জানিয়ে সৌগতবাবু উঠতে যাবেন এমনসময় এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক পাশ থেকে বলে উঠলেন, “আপনি আমার খুব প্রিয় সাহিত্যিক। এই প্রিয় মানুষটিকে এত কাছ থেকে দেখছি এ আমার পরম সৌভাগ্যের কথা। আপনার সাথে নিভৃতে দুটো মিনিট আলাপ করতে পারি কি?”
যত বড় নামকরা ব্যক্তিত্বই হোক না কেন, ভক্তদের এড়িয়ে যায় কী করে। সৌগতবাবু ও সানন্দে রাজি হলেন। একটা গাছের তলায় মুখোমুখি দুটো চেয়ারে বসে সৌগতবাবুই কথা শুরু করলেন, “আপনার বুঝি বই পড়ার খুব সখ ? আমার শেষ উপন্যাসটা পড়েছেন?” ‘আমি ধনঞ্জয় সেন। এই আশ্রমের নিঃসঙ্গ জীবনে বই আমার নিত্যসঙ্গী। আপনার শেষ উপন্যাস ডায়েরির খোলাপাতা বইটা দুবার করে ফেলেছি।
ক্রমশ…..
