গৌতম দে
—তোর মনে আছে তো সুখেন…।
–কি দাদবাবু?
—সামনের রোববার মিটিং আচে কোলকাতায়। এরই মধ্যি ভুলে গেলি সব! রানা দুবে দুধ-সাদা পাঞ্জাবির পকেট থেকে রুমাল বার করে মুখ মুছে বিরক্তি সহকারে আবার বলে, ভুলে গেলে চলবে? তোরা হল গিয়ে পার্টির সম্পদ। তোদের জন্য পার্টি কত নতুন নতুন ভাবনা ভাবে তা তো জানিস… কত প্রকল্প তোদের জন্যই তো রচনা করেছে…।
– হ্যাঁ দাদাবাবু। সে আর বলতে। ঠিক কথাই বলেছেন। সুখেন কাঁচুমাচু মুখে বলে। যাব তো বটেই। আপুনেরা আমাদের মাবাপ। আপনাদের কথা অমান্য করতি পারি! সে সাহস আছে নাকি আমাদের! কি দাদাবাবু…।
যে বলেন-মনে থাকে জেনো…।—তা দাদাবাবু, যাব কিভাবে?
—অনেকেই যাচ্ছে ট্রেনে। আমরা যাব বাসে। দশটা বাস ভাড়া করেছি। কোনও অসুবিধা হবে না। দুপুর বারটায় ছাড়বে। ঠিক সময় বউ ছেলেমেয়েকে নিয়ে উঠে পড়বি বাসে। আর যেন বলতে না হয়। বলে রানা দুবে দলবল নিয়ে আর দাঁড়ায় না।
সে হনহন করে চলে যায়। তার অনেক কাজ আছে। অনেকের বাড়ি যেতে হবে। জনে জনে বলতে হবে। মনে করাতে হবে। আগামী রোববার কলকাতার ময়দানে বিশাল জমায়েত। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। বোবার মত সেদিকে তাকিয়ে থাকে সুখেন।এই মফসসল শহরে রানা দুবের বড় ব্যাবসা আছে। সে লোহার ছাঁটের কারবারি। দোকানও আছে বিরাট।
একেবারে বড় রাস্তার ধারে। অনেকটা কারখানার মত। অনেক লোকজন কাজ করে। বাপ-ঠাকুরদার আমলের ব্যাবসা। তখন এতটা জমজমাট ছিল না। রানা দুবের হাতে পড়ে সেই ব্যাবসা ফুলেফেঁপে উঠেছে এখন।
ক্রমশ…….
