শ্রেয়া ঘোষাল

নবম পর্বের পর…….

……… তিন দিন কিছু খাইনি নাড়ু। সকালে কাগজ

নিয়ে গ্রিলের গেটটা ভেজিয়ে রেখেছিল সুকোমল। নাড়ু কখন বেরিয়ে গেছে কেউ দেখেনি। পাঁচ দিনের মাথায় ফিরে এল। দু সপ্তাহের মাথায় দুপুরের ভাত মাংস বমি করে দিল। পেট বাঁধিয়ে এসেছে শয়তানি। বেল্টটা হুক থেকে টেনে সপাং। একটা শব্দ করেনি নাড়ু দ্বিতীয়বার হাত ওঠাতেই আমি সুকোমলের হাতটা মুচড়ে দিয়ে বললাম, খবরদার। রাগে মুখটা টসটস করছিল ওর। পরদিন রবিবার ছিল। সোমবার অফিস ফেরত এসে দেখি নাড়ু কেমন নেতিয়ে পড়ে আছে। সুকোমল বললো সবে দু’সপ্তাহ হয়েছিল। একটা ইঞ্জেকশনেই্ খেল খতম। রাতে দুধ রুটি খায়নি নাড়ু। পিন্টু কাগজ দিয়ে দরজা খুলে রেখে চলে গিয়েছিল। নাডু খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে কোথায় চলে গেল।

সুচলে গেছে বছর পুরলো প্রায়। নাড়ু এগারো মাস।

নরীর আসল নাম নুরজাহান নয়। ওর নাম ছিল নুরুদ্দিন। বাবা মা নাকি আপনারা? শয়তান আছেন বিলকুল। দম আটকে খুন কোরেন বাচ্চাদের। খুন পিয়ে যান বাচ্চাদের। তব ভি তিয়াস মেটে না। আমার বাপটাও আপলোগোকা মাফি কথা। মুখে লাথ মেরে বেরিয়ে এসেছি। আপনাদের কষ্ট পেতে দেখলে আমার খুন নাচে। তবভি পয়সা নিয়ে আপনাদের কাজই করি। অব্যক্তা বলে নাডু ভালো আছে। সাতটা বাচ্চাকে দুধ পিলাচ্ছে আভি। আমাকে বললোকি ওখানে থাকলে জিন্দগিভর মা হতে পারতাম না। হা হা করে কেঁদে ওঠে নুরী। অব্যক্তা ওর মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে কাঠি কাঠি আঙুল বুলিয়ে দেয় এর মাথায়, গালে মুখে। অব্যাক্তা বেল, বাজায়। চা নিয়ে এসে টেবিলে রেখে যায় কেউ। চা খেয়ে নিয়ে আমাদের বাকি পেমেন্টটা ক্লিয়ার করে দিন প্লীজ। আপনাদের বাড়ি আর ফিরবেনা ও। সো উই আর ক্লোজিং দিস অ্যাসাইনমেন্ট ফাইনালি। সুকে খুঁজে বার করুন। ওর বিয়ের খবর পেলে উই শ্যাল অ্যাটেন্ড দ্যাট বিউটিফুল সেরিমোনি। ওর বাচ্চা এলে নাড়ু মে অলসো ভিজিট ইউ উইথ হার ফ্যামিলি। নুরী উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে বলে, ‘নমস্তে ফির’।

সমাপ্ত ……