পশ্চিমবাংলার মালদা জেলায় ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে বাংলাদেশি চোরাকারবারি এবং বিএসএফ জওয়ান মধ্যে গুলির লড়াই হয়েছে । কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে জোরপূর্বক চোরাচালান করার জন্য একদল বাংলাদেশী চোরাকারবারীরা বিএসএফ জওয়ানকে আক্রমণ করে। তারপরে জোয়ানদের জবাবি এনকাউন্টারে একজন বাংলাদেশী পাচারকারীর মৃত্যু হয় ।

বিএসএফ-এর দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার এক বিবৃতি জারি করে বলে যে শনিবার মালদা জেলার সীমান্ত চৌকি পান্নাপুর ১৫৯ ব্যাটালিয়নের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জনসংযোগ আধিকারিক, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত, বিএসএফ বলেছেন যে পান্নাপুর সীমা চৌকি এলাকায় মোতায়েন জওয়ানরা সকাল ০৬০০ টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের তারবন্দির কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে পশু সহ ১৫-২০ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারীর গতিবিধি লক্ষ্য করে, যারা পশু গুলোকে সীমা পার করে পাচারের চেষ্টা করছিল। একই সময়ে, বাংলাদেশ দিক থেকে প্রায় ১৫-২০ জন চোরাকারবারীও অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তের ২০০ মিটার ভিতরে প্রবেশ করে। চোরাকারবারিদের গতিবিধি দেখে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ান তাদের থামতে বলে। জওয়ানের আওয়াজ শুনে বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা পাথর ও হাঁসুয়া দিয়ে জওয়ানের ওপর হামলা চালায়। বিএসএফ অফিসার বলেন যে এর পরে জওয়ান আত্মরক্ষায় প্রথমে নন লেথল অস্ত্র (অ-মারাত্মক অস্ত্র) দিয়ে গুলি চালিয়ে চোরাকারবারিদের থামানোর এবং তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত জান-মাল রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাতে বাধ্য হন, যাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তারবন্দির কাছে একজন বাংলাদেশি চোরাকারবারী আহত হয়ে পড়ে যায়। এসময় গুলির শব্দ শুনে আহত সঙ্গীকে ফেলে বাকি চোরাকারবারীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে কোম্পানি কমান্ডার ও অন্যান্য জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। হামলার পরও মানবতাকে সর্বাগ্রে রেখে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার আহত চোরাকারবারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও পাচারকারী মারা যায়। পাচারকারীর নাম মকবুল হোসেন (২৫), গ্রাম- কৃষ্ণসাবাদ, জেলা- নগাঁও, বাংলাদেশ। এলাকা তল্লাশির সময় ঘটনাস্থল থেকে দুটি গবাদিপশু উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান ।

উল্লেখ্য প্রায় সময়ই চোরাচালানের সময় চোরাকারবারীরা আহত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। বাংলাদেশের বড় চোরাকারবারীরা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে চোরাচালানে জড়িত করে এবং ছোট চোরাকারবারীরা এই লোভের শিকার হয়ে তাদের মূল্যবান জীবন নষ্ট করে।