সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃতীয় পর্বের পর……
……….
সৌগতবাবু বুঝতে পেরে ধনঞ্জয়বাবুর হাতের উপর নিজের হাতটা রেখে প্রশ্ন করলেন,
“আপনি ডাক্তারের বাবা, এতো পরম গর্বের বিষয়। তা ছেলে কোথায় প্র্যাকটিস করছে?” “শুধু এম.বি.বি.এস নয় এম.ডি করে ফিরেছিল বিদেশ থেকে। তারপর প্র্যাকটিস চেম্বার পশার বিয়ে পরপর ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। সুর কাটল ছেলের বিয়ের পরে। ছেলের বৌও ডাক্তার। ততদিনে বুঝে গেছি ডাক্তারদের জীবনে অনেক চাপ থাকে। আমার স্ত্রী নিজের অসুস্থ শরীরেও, সংসারের কাজের বেশিটাই নিজে করত।
আগলে রাখত পুরো সংসারটাকে। তাও শাশুড়ি বৌতে খিটিমিটি লেগেই থাকত। ততদিনে আমরা ছেলের কেনা নিউটাউনের ফ্ল্যাটে উঠে এসেছি। প্রায় প্রতি রবিবারের সন্ধ্যায় ছেলে তার বন্ধুদের নিয়ে ফ্ল্যাটে একটু আনন্দ ফূর্তির আয়োজন করত। বুঝতাম ডাক্তারদের জীবনে এরকম উইক-এণ্ড দরকার পড়ে রিলাক্স করার জন্য। ছেলেকে বলতাম আমাদের জন্য তোমাদের অসুবিধা হচ্ছে, আমাদের কোন একটা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতে পার, তাতে মনে হয় সব ঠিক থাকবে। ছেলে শুনত না।”
ধনঞ্জয়বাবু এমনিতেই খুব নীচুস্বরে কথা বলেন তারমধ্যে মাঝেমধ্যেই চুপ করে যাচ্ছিলেন বেশ কিছু সময়ের জন্য। বেশ অস্বস্তিকর বিরতি। সৌগতবাবুকেও অনেকটা রাস্তা ফিরতে হবে। তাই বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ কিছুটা অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। একজন গলা তুলে বললেন ” ধনঞ্জয় দা আপনার তো সেই এক কাহিনী, সংক্ষেপ করুন। উনাকে ফিরতে হবে”।
সৌগত বাবু সেই ভদ্রলোককে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে বললেন, ” বলুন ধনঞ্জয় বাবু বলুন”।
………. ক্রমশ…………
