১৭ ই জুলাই, দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীনে সতর্ক বিএসএফ জওয়ানরা ভাগীরথী নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ৭৮ ব্যাটেলিয়ন , সীমান্ত চৌকি বয়রাঘাট এলাকা থেকে ০২ টি গবাদি পশুর সাথে একজন বাংলাদেশি পাচারকারীকে আটক করে। ।
বিএসএফ গোয়েন্দা শাখা একটি তথ্য পায় যে এক বাংলাদেশি চোরাচালানকারী কিছু গবাদি পশুর সাথে বয়রাঘাটের নদী এলাকা পেরিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টায় আছে । যার তথ্য তৎক্ষণাৎ কোম্পানি কমান্ডার, সীমান্ত চৌকি বয়রাঘাটকে জানানো হয় এবং তিনি সাথে সাথে একটি বিশেষ নৌকো নিয়ে একটি পার্টি গঠন করেন এবং দলটিকে নির্ধারিত জায়গায় তল্লাশির জন্য পাঠিয়ে দেন । রাত্রি আনুমানিক ১১ টার দিকে জওয়ানরা নদীতে একটি চোরাকারবারীর সাথে গবাদি পশুর গতিবিধি লক্ষ্য করে। এর পরপরই বিএসএফ বোট পার্টি তাদের নদীতে ঘেরাও করে এবং একজন বাংলাদেশি চোরাকারবারিকে ২ টি গবাদি পশু সহ গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদকালে গ্রেপ্তার করা চোরাকারবারীর পরিচয় নিম্নরূপ :-
i) মিলন শেখ, পুত্র – সাহাউদ্দিন শেখ, গ্রাম – তারাপুর মুন্নাপাড়া, পোস্ট – সাহাপাড়া, থানা- শিবগঞ্জ, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ।
চোরাকারবারি জানায় যে, সে একমাস আগে নদীহয়ে ভারতের গ্রাম নিমতিতার নিকটবর্তী মালদারপাড়া গ্রামে এসে মাসুদ নামে এক ভারতীয় পাচারকারীর সাথে দেখা করেছিলো । তাকে বলা হয়েছিল যে এই গবাদি পশুগুলি ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর পরে সে ৮০০০ / – ভারতীয় টাকা পাবে। আর তাকে এই গবাদিপশুগুলি বাংলাদেশে বকরোলি গ্রামের কামরুল শেখকে দিতে হবে । চোরাকারবারি বলে যে সে যখনই এই গবাদিপশুগুলিকে পাচারের পরিকল্পনা করে তখনই সে বিএসএফের সজাগ ডিউটিতে থাকা জওয়ানদের দেখে আর সাহস করেনি। আজ ভারী বৃষ্টি হবার কারণে গবাদি পশু গুলিকে নদীতে ছাড়া হয় পাচারের জন্য তবে মাঝ নদীতে বিএসএফ এর সতর্ক জওয়ানরা তাকে গবাদিপশু সহ ধরে ফেলে । সে আরো বলে যে আজকে আমার সাথে আরো ০২ জন চোরাচালানকারী ছিল যারা বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে দৌড়ে ভারতের দিকে ফিরে যায় । তার নাম ১) রাজন শেখ যে একজন ভারতীয় চোরাকারবারি এবং ২) মিরাজ শেখ যে একজন বাংলাদেশি চোরাকারবারি।
গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশি পাচারকারীকে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য রঘুনাথগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
৭৮ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার শ্রী বিশ্ববন্ধু বলেছেন যে তাঁর এলাকায় গবাদিপশু পাচার পুরোপুরি আটকানো হয়েছে, তবে এই পাচারকারীরা ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি থেকে দরিদ্র কৃষকদের গবাদি পশু চুরি করে এবং পাচারের জন্য বর্ষার ফলে বন্যার সুযোগ নেয় কিন্তু তাদের পরিকল্পনাগুলি সতর্ক বিএসএফ জওয়ান এবং আধুনিক নাইট ক্যামেরার কারণে ব্যর্থ করে দেওয়া হয় ।
