শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ৬ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা:
আবদুর রশীদ চৌধুরী- তাছলিমা চৌধুরী বুলবুল। দু‘জনই সু প্রতিষ্ঠিত কবি, সংবাদপত্রসেবী, সমাজসেবক, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং পারিবারিক জীবনে সফল ও আদর্শ জুটি।
বাংলাদেশের বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার সাংবাদিকতার অগ্রপথিক আবদুর রশীদ চৌধুরী। পিআইবি প্রকাশিত সাংবাদিক অভিধানে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার একমাত্র জীবিত সাংবাদিক হিসেবে তাঁর নাম অন্তভূক্ত রয়েছে। কুষ্টিয়ার প্রথম দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা’র সম্পাদক ও প্রকাশক । প্রায় ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘দৈনিক সংবাদ’- এ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়া তথা তিন দশকের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তার স্ত্রী কবি তাছলিমা চৌধুরী বুলবুল সাহিত্য পত্রিকা ‘মাসিক অভিষেক’, সাপ্তাহিক জাগরণী’ ও ‘নন্দন-এর সম্পাদক এবং
‘দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা-এর সফল সাহিত্য সম্পাদক।


আবদুর রশীদ চৌধুরী বিশিষ্ট সাংবাদিক, কবি, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সমাজ সেবক এবং কুষ্টিয়া জেলার সাংবাদিকতার অগ্রপথিক। প্রবীণ এই সাংবাদিক ১৯৪৫ সালের ১৬ নভেম্বর তৎকালীন নদীয়া তথা কু্ষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। সাংবাদিক হিসেবে তাঁর নাম অন্তভূক্ত রয়েছে। এ অঞ্চলে সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘ চার দশক ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি একজন কবি, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সমাজ সেবক হিসেবেও পরিচিত । দীর্ঘকাল ধরে কবিতা রচনা করে আসছেন। তাঁর কাব্য গ্রন্থঃ নির্জনে আমি একা; প্রেক্ষিতে মুখর নদী, আয়নায় নিসর্গ রমণ (সম্পাদিত) ও কলকাতা থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তোমার মনকে ছোঁব একদিন’।
তিনি বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের নির্বাহী সদস্য।

তিনি কুষ্টিয়া লায়ন্স ক্লাবের জেলা সভাপতি ছিলেন। কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি ঐতিহ্য পরিষদ কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক, জাগরনী প্রকাশনির স্বত্ত্বাধিকারী ও জাগরনী সাহিত্য সংসদের সভাপতি। তিনি কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নির্বাচিত সহ সভাপতি,কুষ্টিয়া লালন একাডেমীর প্রাক্তন সহ সভাপতি। তিনি নজরুল একাডেমি, কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি।

আবদুর রশীদ চৌধুরী সাংবাদিকতায় ‘কবি জসিম উদ্দিন পদক’ সহ ৩০টি পদক ছাড়াও ভারত থেকে পঁচিশটি পদক পান। স্থানীয়ভাবে ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া জেলা সমিতি, কুষ্টিয়া জেসিস ক্লাব, হাজি মোকাদ্দেস ফাউন্ডেশন মেধা, ড. আলাউদ্দিন আহম্মেদ ফাউন্ডেশন পদক, উত্তরবঙ্গ সাংস্কৃতিক সংঘ পদক ছাড়াও ৩০টি পদক পেয়েছেন। সাংবাদিকতা ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য দেশে ও দেশের বাইরে তাঁকে অন্ততঃ ২৫টি সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়।
আবদুর রশীদ চৌধুরীএকজন চিত্রশিল্পী ও এক্ষেত্রে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে বিএফ এ ডিগ্রী অর্জন করেন এবং ভারত থেকে ডিপ্লোমা ইন-জার্নালিজম লাভ করেন। দীর্ঘ বছর ধরে চিনি ভারত ভ্রমণ করে আসছেন। তার কথায় এটি আমার দ্বিতীয় বাড়ি’। ভারতের মানুষও এই প্রবীণ জনদরদি কবি সাংবাদিককে আপন করে নিয়েছে। যদিও অতিমারির কারণে গত দুই বছর ধরে তার ভারতে আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। তথাপি কোথায় যেন দ্বিতীয় বাড়িতে আসার জন্য এই মহান মানুষটির মন কাঁদে।

তাছলিমা চৌধুরী বুলবুল মূলত রোমান্টিক মানস-প্রবণতার কবি। তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ইচ্ছার অনুরাগে’ এবং প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নদী তুমি আমার’। তার কবিতায় সমাজ-মনস্কতা প্রখর ও স্পষ্ট।
সাহিত্য চর্চা ছাড়াও সাহিত্য সম্পাদনা ও সমাজসেবার কাজে তিনি যুক্ত। তিনি সাহিত্য সাময়িকী ‘মাসিক অভিষেক’, সাপ্তাহিক জাগরণী’ ও ‘নন্দন-এর সম্পাদক এবং বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা-এর সাহিত্য সম্পাদক।
দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি-সাহিত্যিকরা এখানে লেখালেখি করেন। পাশাপাশি প্রতিভাবান নবাগত কবি-সাহিত্যিকদের লেখা প্রকাশ করা করেন তাছলিমা চৌধুরী বুলবুল। দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার কবিতা নিয়মিত প্রকাশ পেয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন ও সমাজমূলক সংস্থার তিনি সাধারণ ও আজীবন সদস্য ও কর্মকর্তা।
সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পাবনার ‘বাংলাদেশ কবিতা সংসদ’ ১৪০৮ বঙ্গাব্দে ‘বাংলা সাহিত্য পদক’ লাভ করেন এবং ২০০৭ সালে খুলনার একুশে বইমেলায় তাকে গুণীজন সংবর্ধনা ও পদক দেয়া হয়।


২০১৬ সালে লালমণিরহাটে “গঙ্গা-গোবিন্দ স্মৃতি পরিষদ” যারা দুই বাংলার সাহিত্যকর্মীদের নিয়ে কবিতা আড্ডা ও সংবর্ধনা এবং সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করেন, সেখানে কবি তাছলিমা চৌধুরী বুলবুল ও কবি আবদুর রশীদ চৌধুরী সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।