
শুভাবরি ওয়েবডেস্ক,দেবাঞ্জন দাস, কলকাতাঃ
ভারতবর্ষে লক ডাউন প্রায় এক মাসের বেশি হয়ে গেল । যার বিরুদ্ধে আমরা লড়ছি তা হল করোনা ভাইরাস মহামারী, যে ভাইরাস ধীরে ধীরে গ্রাস করেছে গোটা বিশ্বকে। ভারতবর্ষ ও তার গ্রাস থেকে নিষ্কৃতি পায়নি।
যেহেতু ভাইরাসটি একজনের শরীর থেকে অপরজনের শরীরে প্রবেশ করে তাই সামাজিক দূরত্বটা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং ডাক্তারদের মতে বর্তমানে এই ভাইরাসের একমাত্র ওষুধ সামাজিক দূরত্ব। ফলে বন্ধ হয়েছে বিভিন্ন দোকান-বাজার, রাশ টানা হয়েছে রাস্তাঘাটে যখন তখন চলাফেরা। যে সমস্ত বাজার খোলা আছে সেখানে একসাথে ভিড় করে সবজি, ফল, মাছ বাজার করতে বিশেষজ্ঞরা বারণ করছেন। সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ ও নিচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন।

কিন্তু কিছু কিছু স্থানে মানুষ সচেতন হলেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার হাট করা আমরা মানতে পারছি না। বাড়িতে এসে একজন আরেকজনকে পরিবারের মধ্যেই কথোপকথনে বলছি ‘বাইরে গেলে দূরে দূরে থাকবে, দরকার ছাড়া বাইরে যাবে না।’
সংবাদ মাধ্যমে কাজ করার সূত্রে এই লকডাউন পরিস্থিতিতে কিছু বিশেষ জিনিস চোখে পড়ল: সাধারণ সময় আমরা যখন বাজারে যাই আলু, পিয়াজ সবই আমরা সাধারণত এক কিলো করে নিয়ে থাকি। কিন্তু যখন বলা হচ্ছে যে বেশ কিছুদিনের বাজার আপনারা করে রাখুন যাতে ক্রমাগত বাইরে না বেড়াতে হয়, তখন দেখা যাচ্ছে ওই ১ বা ২ কিলো আলু পিয়াজ কমে ২০০- ৫০০ গ্রাম হয়ে যাচ্ছে। কারণ কিছু পরিমাণ মানুষের তো বাইরে বেড়োতে হবে। সে যে কোন অজুহাতেই হোক। এছাড়াও দেখা গেছে যেখানে বারবার করে সাবধান করা হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে, সেখানে অনায়াসেই শিশুকে নিয়ে তার বাবা মা বাইরে বেরিয়েছেন তাও আবার মাক্স ছাড়া। প্রশ্ন করলে তার উত্তরও রেডি।—– “আসলে এতদিন ছেলে ঘরে থাকতে থাকতে বোর হয়ে যাচ্ছে , ভাবলাম একটু ঘুরিয়ে আনি”। এক প্যাকেট দুধ কিনতে বেরোচ্ছেন দুজন। যারা এই বিধি নিষেধ গুলো মানছেন না তারাই আবার পাড়ায় ঢুকলে বলছেন সত্যিই মানুষের বাজার করা আর শেষ হয়না!

তারা একবারও ভাবছেন না কোনভাবে ভাইরাস যদি তাদের শরীরে দানা বাঁধে তাহলে শুধুমাত্র তিনিই না তার সাথে গোটা পরিবারকে ভুগতে হবে। একটু সচেতন হতে কি খুব কষ্ট হয়? দিনের পর দিন নিজেদের জীবন বিপন্ন করে স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা, পুলিশ, মিডিয়া আপনাদের জন্য দিন রাত খেটে যাচ্ছেন। আমরা কি পারি না তাদের এই খাটনিকে কিছুটা কমানোর জন্য।
‘হু’ এবং কেন্দ্রীয় সরকার মাস্ক পড়াকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণমানুষ মাস্ক পড়ছেন না। প্রশ্ন করলে উত্তর: ‘আসলে সব সময় পড়ে থাকতে কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে’।

আমাদের মধ্যে সচেতনতা আছে? কিছু কিছু জায়গায় পুলিশকর্মীদের হাতজোড় করে সাধারন মানুষদের বলতে হচ্ছে দয়া করে লকডাউনটা মানুন, দয়া করে মাস্ক পড়ুন। সমস্ত কিছু করা হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে।
প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে চেষ্টা করছে এই সংক্রমণের হারকে কমিয়ে এনে সমাজকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে।
আমাদের যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে গত এক মাসের ওপর । এই অচলাবস্থা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার এই যুদ্ধতে আমরা যদি বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করতে পারি তা হলো লকডাউনের বিধি তার সাথে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।
সকলে সুস্থ থাকুন , সচেতন থাকুন। আমাদের এই সংকল্প খুব তাড়াতাড়ি এই অচলাবস্থা থেকে এবং ভাইরাস থেকে মুক্তি দেবে আমাদের সমাজকে।
