গত ১৫ ডিসেম্বর দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের সীমা চৌকি ভারোল ৮৬ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা গোয়েন্দা তথ্য পায় যে কিছু চোরাকারবারি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল পাচার করার চেষ্টা করছে। খবর পাওয়া মাত্রই জোয়ানরা ওই এলাকায় অ্যামবুশ লাগায়। কর্তব্যরত জওয়ান এলাকায় কিছু গতিবিধি সন্দেহ করলে, সে অবিলম্বে অ্যাম্বুশ দলকে জানায়। কিছুক্ষণ পর জোয়ানরা এক পাচারকারীকে ধরে ফেলে। তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১২৫টি ফেনসিডিল বোতল ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।
গ্রেফতার হওয়া পাচারকারীর নাম শিবনারায়ণ মন্ডল, পিতার নাম নলিত মন্ডল, গ্রাম কুটির বদতলা, জেলা নদীয়া।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চোরাকারবারী জানায়, সে এসব ফেন্সিডিল বোতল ও গাঁজা জামরুল শাহ, পিতা নজরুল শাহ, গ্রাম শিকারপুর, জেলা নদীয়া থেকে নিয়েছে। এরপর এই বোতল ও গাঁজা রিপন শেখ, পিতার নাম মোহাম্মদ শেখ, গ্রাম কাজিপুর, জেলা মেহেরপুর, বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হতো।
এটি ছাড়াও, অন্য একটি ঘটনায় ওই দিন মালদা সেক্টরের ৭০ ব্যাটালিয়নের সীমা চৌকি সাসানির সতর্ক কর্মীরা ৭৫ বোতল ফেনসিডিল সহ একজন ভারতীয় পাচারকারীকে ধরেছে।
গ্রেফতারকৃত পাচারকারীর নাম সাদ্দাম হুসেন, বয়স ২৬ বছর, পিতার নাম সফিকুল ইসলাম, গ্রাম সাসানি, থানা কালিয়াচক, জেলা মালদা, পশ্চিমবঙ্গ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম হোসেন জানায়, সে এই ফেনসিডিল গুলো রহিম মিয়া, বয়স ২৫ বছর, পিতার নাম বিকাশ মিয়া, গ্রাম সাসানী, থানা কালিয়াচক, জেলা মালদা পশ্চিমবঙ্গের কাছ থেকে নিয়েছিল। পরবর্তীতে এসব ফেনসিডিল বোতল নাজিম মিয়া, বয়স ৩০ বছর, পিতার নাম জাইরুল এস কে, গ্রাম আজমতপুর মুন্না টোলা, থানা শিবগঞ্জ, জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ এর কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। এই কাজের জন্য সে ১৫০০/- টাকা পেত। ভারতীয় বাজারে বাজেয়াপ্ত ফেনসিডিলের আনুমানিক মূল্য ৩৭,৩০০/- টাকা।
গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী ও জব্দকৃত মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিয়াচক ও মুরুটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনসংযোগ আধিকারিক, দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার ৮৬ এবং ৭০ ব্যাটালিয়নের কর্মীদের শাবাশি দিয়ে বলেন যে আমাদের জওয়ানরা এই অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান বন্ধ করতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোয়ানদের সতর্কতা ও বোঝাপড়ার কারণেই চোরাকারবারিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

