গত ১২ জুলাই বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ৪ বাংলাদেশি নাগরিক এবং ৪ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে । গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩ বাংলাদেশি এবং ৪ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার চেষ্টা করছিল। একই সাথে, ভারত থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ১ বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩ জন মহিলা এবং ৩ শিশুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গোয়েন্দা সূচনার ভিত্তিতে বর্ডার চৌকি ঝোড়পাড়া, ০৮ ব্যাটালিয়ন , সেক্টর কলকাতা সীমান্তের মোতায়েন করা জওয়ানরা লক্ষ্য করে যে কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। যার মধ্যে ০৭ জন বিএসএফ জওয়ানদের হাতে ধরা পড়ে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ
i) আরিফ মণ্ডল, বয়স – ৩৩ বছর, পিতা – নজরুল মন্ডল, গ্রাম – উত্তরচাঁদমারী, পোস্ট – চাঁদমারী, থানা – কল্যাণী, জেলা – নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ।
ii) আনিশা মণ্ডলের বয়স ০৫ বছর,
iii) উন্মেত মন্ডল, বয়স ০২ বছর
(আনিশা ও উন্মেত দুজনেই আরিফ মন্ডলের সন্তান)
iv) সোনমুনি মণ্ডল, বয়স – ২৩ বছর, স্বামী – আরিফ মণ্ডল।
v) আনোয়ারা বিবি, বয়স – ৩৫ বছর, স্বামী – জাহিদ দফাদার, গ্রাম – গড় (গড়াবাদ), পোস্ট – চাঁদ বাড়ি , থানা – মীনাখান, জেলা – উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।
vi) জীবন মোল্লা, বয়স ০৮ বছর।
vii) মিলন কর্মকার, বয়স – ৩৪ বছর, পিতা – মহীন্দ্র নাথ কর্মকার, গ্রাম – লোহ গঞ্জা, পোস্ট – হাট গোপালপুর, থানা – জেনাইদহ, জেলা – জেনাইদা, বাংলাদেশ।
আরিফ মন্ডল জানিয়েছে যে সে স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে নিজের চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে বাংলাদেশে গিয়েছিল। এজন্য সে এক অজানা দালালকে ১০,০০০/ – টাকা দিয়েছিল এবং অজানা জায়গা থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। সেখানে তার চিকিত্সা শেষে সে তার পরিবারের সাথে বাগাডাঙ্গায় তার চাচা নাসিরের বাড়িতে পৌঁছেছিল এবং আজ বাগাডাঙ্গার বাসিন্দা এক বাংলাদেশী দালাল মমিন পিতা জিয়ারুলকে ৯,০০০/- বাংলাদেশি টাকা দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল।
আনোয়ারা বিবি জানিয়েছে যে সে একজন বাংলাদেশী নাগরিক এবং তার ০৮ বছর বয়স থেকেই তাঁর মা এবং ভাইয়ের সাথে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিল। তার মা মুম্বাইয়ের বাড়িতে বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসাবে কাজ করত। মুম্বাইয়ে, সে জাহিদ দফাদার নামে এক ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় । বিয়ের পরে তার মা ও ভাই আবার বাংলাদেশে চলে যায় । ০৮ বছর আগে তার স্বামীর সাথে তালাক হয়েছিল এবং সে সুধীর নামে একজনের বাড়িতে বাই হিসাবে কাজ শুরু করেছিল, যে মহারাষ্ট্রের নবি মুম্বাইয়ের সেক্টর 06, মওরাজের বাসিন্দা । তাঁর দুই ছেলে মুম্বইতে মেকানিকের কাজ করে এবং দুই কন্যার বিবাহ করেছেন আসাম রাজ্যে। ১০ মাস আগে সে তার ০৮ বছরের শিশুকে নিয়ে তার মায়ের সাথে দেখা করতে বাংলাদেশে গিয়েছিল। আজ সে ভারতে ফিরে আসছিল এবং এই কাজে তাকে দুই বাংলাদেশী দালাল মমিন ও মিলান সাহায্য করেছিল, যারা এই কাজের জন্য তার কাছ থেকে ১৫০০০/- টাকা নিয়েছিল।
মিলন কর্মকার বলেছে যে সে একজন বাংলাদেশী নাগরিক এবং যকৃতের সমস্যার চিকিত্সার জন্য মাজদিয়া জেলা নদীয়া পশ্চিমবঙ্গ যাচ্ছিল। ২০১২ সালে সে বেনাপুল হয়ে ভিসায় ভারতে এসেছিল এবং তার মামী পুনি স্ত্রী-উজ্জ্বল প্রামানিকের বাড়িতে ছিল। তার মামীও একজন বাংলাদেশী নাগরিক, তবে ভারতে আসার পরে ২৫ বছর আগে সে উজল প্রামানিককে বিয়ে করেছিল এবং ভারতে বসতি স্থাপন করেছিল।চিকিত্সা শেষে সে গেঁদে চেকপোস্ট হয়ে বাংলাদেশে চলে যায় । আজ সে আবার চিকিত্সার জন্য ভারতে আসছিল। এই কাজে তাকে দুই বাংলাদেশী দালাল মমিন ও মিলান সাহায্য করেছিল, যারা এই কাজের জন্য তার কাছ থেকে ১৩,০০০/- টাকা নিয়েছিল।
১২ জুলাই, ২০২১, প্রায় ২০৩০ টায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ১১২ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি তারালির জওয়ানরা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্ত অঞ্চল থেকে এক বাংলাদেশী মহিলাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া মহিলার পরিচয়
i ) সাথী সরদার, গ্রাম – ভদ্র, পোস্ট – বাশদা, জেলা – সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
জিজ্ঞাসাবাদে সাথী সরদার প্রকাশ করে যে সে কাজের সন্ধানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ৩ বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে এসেছিল এবং ভারতে আসার পরে সে রেড লেভেল হোটেল গুড়গাঁও সেক্টর -২২ (হরিয়ানা) এ শ্রমিকের কাজ করছিল। আজ (১২ জুলাই) এক ভারতীয় দালাল শাহীন শাহজি (গ্রাম-হাকিমপুর উত্তরপাড়া, থানা-স্বরূপ নগর, উত্তর ২৪ পরগনা) এর সহায়তায় অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সময় বিএসএফ তাকে ধরে ফেলে।
গ্রেপ্তারকৃতদের কে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে জারি করা একটি বিবৃতিতে বিএসএফ বলেছে যে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যার কারণে অনুপ্রবেশকারী এবং দালালরা এ জাতীয় ঘটনা ঘটাতে অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেককেই ধরা হয়েছে এবং আইন অনুসারে শাস্তিও পাচ্ছে।
