গত ৩১ জানুয়ারী দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের সীমা চৌকি তারালি ১১২ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা তাদের দায়িত্বের এলাকা থেকে একজন বাংলাদেশী মহিলাকে আটক করেছে, যে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা এলাকা থেকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসছিল ।

ঐ দিন ভিত্তিতে সীমা চৌকি তারালি, ১১২ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার কর্মীরা ডিউটির সময় একজন মহিলাকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেখে, যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার চেষ্টা করছিল। সাথে সাথেই তাকে আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জোয়ানরা।

গ্রেফতারকৃত মহিলার নাম রুকসানা বেগম (কাল্পনিক নাম), বয়স ৩২ বছর, জেলা বরিশাল, বাংলাদেশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই মহিলা জানায়, ২০০৬ সালে মোহাম্মদ ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০১১ সালে সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু ঘরোয়া সমস্যার কারণে সে ২০১৩ সালে তার স্বামীকে তালাক দেয়। সে আরও বলে যে ২০১৭ সালে সে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে এসেছিল। ভারতে আসার পর সে গুজরাটের দামনের টিন বাত্তি তে চলে যায় এবং সেখানে কাপড় সেলাই এর কাজ শুরু করে এবং সেখানে একটি ভাড়া বাড়িতে (সাজানন্দ অ্যাপার্টমেন্ট) বসবাস শুরু করে। সে জানায়, তার এক বান্ধবী বেশি টাকা অর্জনের জন্য তাকে পতিতাবৃত্তি করতে বলে এবং টাকার লোভে সে এই কাজ করতে রাজি হয়। এরপর সে দমনের বিভিন্ন স্থানে কল গার্ল হিসেবে কাজ করে। এ সময়ের মধ্যে সে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে গিয়েছিল। ওই মহিলা জানায় যে, ৬ মাস আগে সে একজন ভারতীয় দালালের সহায়তায় তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে গিয়েছিল, যার জন্য সে ওই দালালকে ১৯ হাজার টাকা দিয়েছিল। সে বলে যে ৩১ জানুয়ারী, ২০২২ তারিখে, সে যখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার জন্য একজন বাংলাদেশী দালালের সহায়তায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করছিল তখন কর্তব্যরত জোয়ানরা তাকে ধরে ফেলে।

গ্রেফতারকৃত মহিলাকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য স্বরূপ নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার তার জওয়ানদের দ্বারা একজন বাংলাদেশী মহিলাকে মানব পাচারকারীদের হাত থেকে মুক্ত করার কৃতিত্বে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন যে এটি আমাদের জওয়ানদের সাবধানী এবং সতর্কতামূলক দায়িত্বের ফল। তিনি আরও জানান যে দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার, বিএসএফ মানব পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিট মোতায়েন করেছে।