কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এবারের বামফ্রন্টের প্রার্থী মোহিত কুমার ভট্টাচার্য। ২০১৫ আগে প্রায় বহু বছর সেখানে পৌর প্রতিনিধি ছিলেন বামফ্রন্টের স্বর্গীয় অমল মিত্র। ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তনের ঝড় ২০১৫ পুরসভা নির্বাচনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল । ৩০ বছরের বেশি বামফ্রন্টের অধীনে থাকা ১১৪ নম্বর ওয়ার্ড চলে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে, পৌর প্রতিনিধি হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বজিৎ মন্ডল।
একান্ত সাক্ষাৎকারে সিপিআইএম প্রার্থী মোহিত কুমার ভট্টাচার্য বিভিন্ন অভিযোগ আনেন বিগত নির্বাচন নিয়ে এছাড়া ওয়ার্ডের উন্নয়ন নিযয়েও তার রয়েছে ক্ষোভ।
তার কথায় “২০১৫ পুরসভা নির্বাচনে গুন্ডামি করেছে, নির্বাচন হয়েছে লুটের। অতএব সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার কোনো পরিস্থিতি ছিল না”।
২০১১ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বামফ্রন্টের ভোট পাওয়ার গ্রাফ ধীরে ধীরে কমেছে সেই প্রশ্নে মোহিত বাবু বলেন “২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৩৯শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। বস্তুত সিপিএম শ্রেণীর প্রথম ছাত্র। সম্পূর্ণরূপে একটি বাইনারি খেলা চলছে । বিজেপি আমাদের রাজ্যে সেরকম ভাবে কোনও দিনই ছিল না। তৃণমূল নিজেদের বাঁচাতে বিজেপি কে ডেকেছে। এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পক্ষে ভোট কেটেছে এবং সুযোগ করে দিয়েছে তৃণমূলকে আবার ক্ষমতায় আসায়। বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।
করোনাকালে যেভাবে এই ওয়ার্ডে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল তখন সাধারণ মানুষের পাশে বামফ্রন্ট এবং রেট ভলেন্টিয়ার দের সদস্যরাই ছিলেন। ২০২০ সালে ১১৩এবং ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১১ লক্ষ টাকার ত্রাণ বিলি করেছি। তখন মানুষ জেতা মানুষদের পাশে পায়নি”।
রেড ভলেন্টিয়ার পরিকল্পনা কি ভোটের জন্যই করা?- এই প্রশ্নে মোহিত বাবু জোর গলায় বলেন “আমরা ভোটের দিকে তাকিয়ে কোনো কিছু করি না মানুষের সাথে আমরা আগে থেকেই ছিলাম”।
বর্তমানে ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে” বলেন যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, জলের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ তার সাথে রয়েছে নিকাশি ব্যবস্থা। ওয়ার্ডের একটু ভেতরের দিকে যদি ঢোকা যায় তাহলে সর্বত্র একটু বৃষ্টি হলে জল জমে , আনন্দপল্লীর দিকে রাস্তা প্রচন্ড খারাপ। আমাদের সময় যে কাজ হয়েছিল এখন সেই কাজ আর হচ্ছে না। রাস্তা তৈরি বিভিন্ন কাঁচামালে থাকছে ভেজাল অতএব রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ”।
ভোটের আর কিছুদিন বাকি মানুষের কাছ থেকে কেমন ফিডব্যাক পাচ্ছেন? – সেই প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন “কিছু কিছু জায়গায় আমাদের বিরোধী ভোট পড়ত সেখান থেকে প্রচারে গিয়ে ভালোই ফিডব্যাক পাচ্ছি মানুষ নিজেরাও বলছে এবার ভোট লুট হতে দেব না। নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি, আমি নিশ্চিত ভোট লুট না হয় এবং পুলিশ প্রশাসন যেভাবে আশ্বস্ত করেছে তাতে যদি শান্তিপূর্ণ ভোট হয় আমি ১০০% জিতছি।
যদি বামফ্রন্ট কর্পোরেশন বোর্ড জিতে নেয় তাহলে প্রথম ক্ষেত্রে ২৮০০০ পদ কর্পোরেশনে খালি রয়েছে তা পূর্ণ করা হবে”।
বিগত উপ-নির্বাচনে বামফ্রন্টের আগের থেকে ফল ভালো হয়েছে এবং ভোট আগের থেকে অনেক বেড়েছে এমনই দাবি করছেন মোহিত বাবু। তবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর ভোট এবং ২১ ডিসেম্বর তার গণনা। কলকাতা পুরবোর্ড কে পাবেন অথবা ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আবার বামফ্রন্ট ফিরবে কিনা সেটা বলে দেবে সময়।
