গার্গী সিনহা

১০ তম পর্বের পর….

সম্ভবত এই কারণে দেশজ বাসগৃহ আলাদাভাবে বহুসংখ্যক জানালা থাকে না। দেশজ রীতি অনুযায়ী বাসগৃহের নির্দিষ্ট কোন দিকে বাঁশের বেড়ার একটি দেওয়ালে সামান্য চতুর্ভূজাকার ফাঁক রাখা হয়— এটাই জানালা। সাধারণত পুরো বাড়িতে একটি, বড়জোর দুটি মাত্র জানালা থাকে যার মধ্য দিয়ে ঘরের ভেতরে বসে বাইরে নজরদারী চালানো যায়। জানালার পাল্লা থাকে না। পরিবর্তে, জানালার চেয়ে অল্পকিছু বড় মাপের বাতার আয়তাকার বুনট তৈরি করে সেটাকে জানালার সাথে সংযুক্ত রাখা হয় (কোন কোন ক্ষেত্রে এটা আলগাও থাকতে পারে)। একটা ছোট কঞ্চি বা লাঠির সাহায্যে প্রয়োজনমত জানালার ঝাঁপ খোলা-বন্ধ করা যায়। দরজার পাল্লা তৈরির জন্য দরজার সমমাপযুক্ত বা সামান্য বড় লম্বালম্বিভাবে আয়তক্ষেত্রাকার ফ্রেমে (চেরাবাঁশ বা বেত বা সরু নলিবাঁশের তৈরি) ওই একই উপাদান প্রথমে লম্বাভাবে পরপর সাজিয়ে বাঁধা হয়, তারপর পুরো কাঠামোর দুপাশে কর্ণ বরাবর দুজোড়া করে ফ্রেমের উপাদান কাটাকুটিভাবে আটকে দেওয়া হয়। সাধারণভাবে পাল্লা আলাদাই থাকে, দরজা বন্ধ রাখতে চাইলে এটি দরজার ওপর বসিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই খোলা জানালা বা উঠান থেকে যেখানকার মাটি বৃষ্টির জল শুষে নিয়ে ভৌমজলভান্ডারকে পূর্ণস্থাপন করে, যা পরোক্ষ পুষ্ট করে ধারণ পরিবেশ তথা অরণ্যকেও।

ক্রমশ……