রিমা বিশ্বাস

অফিস থেকে যখন রূপালী বেরল তখন আকাশের রঙটা দেখে ভয় করছিল। যেন ধূসর চাদর টেনে রয়েছে। তার মধ্যে অ্যালমুনিয়াম পেইন্টের ইলেকট্রিক পোস্টগুলো সাদা ফক্ফক্ করছে। সাইড ব্যাগের স্ট্র্যাপে হাত রেখে রাস্তা পার করে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়াল স্ট্যান্ডে। ট্রেজারি অফিসে কাজটা প্রায় চোদ্দ বছর হয়ে গেল। আর রূপালীর ওই অফিস আর বাড়ি।

একটা ভিড় বাস এসে দাঁড়াল স্টপেজে। যেন মানুষ নয় গাছে বাদুড় ঝুলছে। আকাশের যা অবস্থা আর বাসটাকে ছাড়ার সাহস পেল না, উঠে পড়ল গুঁতোগুঁতি করে। ব্যাগটা বগলদাবা করে ডান হাতে বাসের রডটা ধরে রূপালী দাঁড়াল কোনোরকমে। বাইরেটা বেশ অন্ধকার, বাসের লাইটগুলো জ্বলে গেছে। এখনই যদি বৃষ্টি শুরু হয় তবে রূপালীকে ভিজে ভিজে যেতে হবে। যদিও সঙ্গে ছাতা এনেছে, তাও রাস্তাঘাটের যা অবস্থা হয়।

স্টপেজ আসতে বৃষ্টি টিপটপ শুরু। ছাতাটা খুলে একটা রিক্সা ধরে নিল। নিজে পয়সা রোজগার করলে এই এক সুবিধে। নির্দ্বিধায় পয়সা খরচ করা যায়। তাও রূপালী বুঝেই চলে। মাস গেলে সংসার খরচ দিতে হয়। তাছাড়া নিজের ভবিষ্যতের সেভিংসও তো আছে। বুড়ো বয়সে কি শেষে দাদার দয়ায় কাটাবে! অবশ্য সরকারি চাকরির একটা সুখ হল পেনশন।

ক্রমশ…..