ডিজিটাল ডেস্ক; ২১ ফেব্রুয়ারি: সম্প্রতি দিল্লি এবং ঐতিহ্যবাহী শহর খাজুরাহোর মধ্যে প্রথম সরাসরি বিমান চলাচলের সূচনা হয়েছে । এই নিয়ে আরসিএস-উড়ান প্রকল্পের আওতায় ৪০৫টি রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য আরসিএস-উড়ান ৩.০ এর আওতায় স্পাইস জেটকে দিল্লি-খাজুরাহো-দিল্লি রুটে বিমান চলাচলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিন এই বিমান চলাচল সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম সিন্ধিয়া, মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীমতী ঊষা পাধী, স্পাইস জেটের চেয়ারম্যান বিষ্ণু দত্ত শর্মা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সপ্তাহে দুদিন, শুক্র ও রবিবার এই বিমান চলাচল করবে। এর জন্য স্পাইস জেট ৭৮ আসন বিশিষ্ট কিউ৪০০ টার্বো প্রপ বিমানের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়র এবং জব্বলপুর বিমানবন্দরে স্পাইস জেট পরিষেবা দিয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানের ভাষণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, খাজুরাহো হল বিশ্বের গর্ব। এটি মধ্য প্রদেশের সংস্কৃতি ও শিল্পকলা এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রবেশদ্বার। মধ্য প্রদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে এর একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিক রয়েছে। তিনি জানান, মধ্য প্রদেশে খাজুরাহো ছাড়া ইন্দোর, ভোপাল, গোয়ালিয়র এবং জব্বলপুরে চারটি বিমানবন্দর রয়েছে। গত ৭ মাসে মধ্য প্রদেশে প্রতি সপ্তাহে ৪০ শতাংশ বিমান চলাচল বেড়েছে। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে সরকার দেশে আরও ১০০টি বিমানবন্দর এবং ১ হাজারটি নতুন বিমান রুট নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। শ্রী সিন্ধিয়া আরও জানান, এখনও পর্যন্ত ৬৫টি বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ করা হয়েছে এবং ৪০৩টি বিমান রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। ২০১২-১৩ সালের তুলনায় ২০২১-২২ সালে বিমান যাত্রীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। উড়ে দেশকা আম নাগরিক – উড়ান প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের বিমান চড়ার স্বপ্নপূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৭৮ সালে খাজুরাহো বিমানবন্দর তৈরি হয়। মূলত দিল্লি, আগ্রা, বারাণসীতে বিমান পরিষেবা দিতেই এই বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে মন্ত্রক খাজুরাহো বিমানবন্দর আধুনিকীকরণে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এখানে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো সহ রাত্রিকালীন বিমান অবতরণের সুবিধা, রানওয়ে পুনর্গঠন, নতুন এটিসি টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। খাজুরাহো নৃত্য উৎসব শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগেই এই বিমান চলাচলের সূচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখন বিমানের মাধ্যমে দিল্লি থেকে যাত্রীরা সরাসরি খাজুরাহো যেতে পারবেন এবং শহরের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ভোগ করতে পারবেন।
