ডিজিটাল ডেস্ক; ২১ ফেব্রুয়ারি: খড়গপুরের আইআইটি শিক্ষণ ও শিক্ষার জন্য একটি অভিনব ই-লাইব্রেরি তৈরি করেছে যেটি জিতে নিয়েছে ওয়ার্লড সামিট অ্যাওয়ার্ড (ডব্লুএসএ)।

ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়া বা এনডিএলআই একটি অভিনব ই-লাইব্রেরি, যেটির সৃষ্টির পিছনে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ডঃ পার্থপ্রতীম দাস এবং আইআইটি খড়গপুরের বেশ কয়েকজন তরুণ গবেষক দল। গোটা কর্মসূচিটির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক।

ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়া সাধারণের জন্য একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি যেখানে ৫৫ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার উৎস পাওয়া যাচ্ছে বিনামূল্যে।

২০১৫-র সূচনা থেকে এনডিএলআই-এর লক্ষ্য হল জাতীয় জ্ঞান সম্পদের ভান্ডার তৈরি করা। দশটি ভারতীয় ভাষায় জ্ঞান ভান্ডার পাওয়া যাচ্ছে এক জানালা ব্যবস্থায়, যেখানে ভেঙে গিয়েছে ভৌগোলিক বেড়া, ভেঙে গিয়েছে ভাষার প্রতিবন্ধকতা। সব ধরণের আর্থ-সামাজিক শ্রেণীর ছাত্রদের জন্য একটি কার্যকরী শিক্ষণ পরিবেশ তৈরি করেছে। এনডিএলআই-রয়েছে ৫০ মিলিয়নের বেশি বিষয় যেটি দেওয়া হয় একাধিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এবং সারা দেশে এর ৫ মিলিয়নের বেশি দর্শক রয়েছে।

এনডিএলআই ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রকে ঐক্যবদ্ধ করেছে দুটি নতুন পরিষেবার সাহায্যে। প্রথমটি হল, বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ‘স্টাডি অ্যাট হোম’ বিভাগ এবং ছাত্রছাত্রী, গবেষক, উদ্যোগপতিদের জন্য একটি জাতীয় কোভিড-১৯ গবেষণা ভান্ডারের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও, স্কুল, কলেজ এবং এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য সিবিএসই পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক তথ্যসংগ্রহ।

এই প্ল্যাটফর্মে চালু রয়েছে সারা দেশের শিক্ষামূলক বিষয়ের পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পৌঁছানোর পন্থাপদ্ধতি।

৬৫ মিলিয়নের শক্তিশালী তথ্যভান্ডার ঢেলে সাজানো হয়েছে এড-টেক সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে। শুধুমাত্র তথ্যভান্ডারই নয়, এটি পরিষেবাকেন্দ্রিক-ও হয়ে উঠেছে অচিরেই। দৈনিক পেজভিউ বেড়েছে ১০ গুণ বা ২ লক্ষ। স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে সারা বিশ্বের শিক্ষক মহল পেজটি দেখছে নিরন্তর। এটি শুরু করেছে হ্যাশট্যাগ- ‘ফাইট ব্যাক কোভিড-১৯’ (#FightBackCovid19)। সর্বসাধারণের জন্য মুক্ত হওয়ায় এবং এক-ই সঙ্গে গুণমান সম্পন্ন বিষয়ের প্রাপ্যতা এই মুক্ত উৎসের জনপ্রিয়তা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, এর সর্বজনগ্রাহ্য নীতি, জ্ঞান সহযোগী হিসেবে মান্যতা পেয়েছে। ৭৫ মিলিয়নের বেশি মেটাডাটার অন্তর্ভুক্তি একে অনন্য উচ্চতা দিয়েছে, দিয়েছে সামাজিক প্রাসঙ্গিকতাও।

এই লাইব্রেরিতে আছে সব ধরণের উৎস যেমন- বই, অডিও বুক, লেকচার, ভিডিও লেকচার, বক্তৃতা, নোট, সিমুলেশন, প্রশ্নপত্র, সমাধান ইত্যাদি। শিক্ষার বিষয়গুলি পাওয়া যায় প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত সব ধরণের বিষয়েই, যেমন- প্রকৌশল, সমাজ বিজ্ঞান, সাহিত্য, আইন, চিকিৎসা প্রভৃতি। সব বিষয়েই ‘ইউজার ইন্টারফেস’ পাওয়া যাচ্ছে
বহুল ব্যবহৃত ভারতীয় ভাষাগুলিতে। শিক্ষামূলক বিষয়ে লিখেছেন একাধিক লেখক এবং বহু সংখ্যক ভারতীয় শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ভান্ডার থেকে নেওয়া হয়েছে বিষয়বস্তু।

এনডিএলআই পরিচালিত হচ্ছে একটি অভিনব প্রক্রিয়ার দ্বারা যেটি শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করতে সমর্থ। এরজন্য চলছে অনলাইনে একটানা প্রচারাভিযান যাতে সারা দেশের শিক্ষাপ্রার্থী দের সক্রিয় করে তোলা যায়। এই ই-লার্নিং ব্যবস্থার লক্ষ্য হল, শিক্ষাদান, সক্ষমতা দান এবং ক্ষমতায়ণে সাহায্য করা, যাতে, কোনো শুধু বিশেষ শ্রেণী নয় সারা ভারতের ছাত্রছাত্রীরা যথাযথভাবে শিখতে পারে, নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে সংকটকালেও।

২০২১-এর ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড-বিজেতারা দেখিয়েছেন, ডিজিটাল সমাধান সূত্রের সাহায্যে সামাজিক সমস্যার মোকাবিলা করা কিভাবে সম্ভব। ৪০ জন বিজেতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে সমাধানসহ ১৮২-টি দেশ থেকে এবং ৩৮০টি প্রকল্পের মধ্য থেকে। ইউএনএসডিজি লার্নিং অ্যান্ড এডুকেশন শ্রেণীতে এশিয়া থেকে একমাত্র বিজেতা এনডিএলআই। অন্যদেশগুলির মধ্যে রয়েছে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, লিথুয়ানিয়া এবং মালাওয়ি।

ইনফরমেশন সোস্যাইটি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব শিখর সম্মেলন কাঠামোর অন্তর্গত এই পুরস্কার ব্যবস্থা অস্ট্রিয়া দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩-এ। এটি অবশ্যই একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। এর লক্ষ্য ডিজিটাল প্রয়োগ এবং বিষয়কে স্বীকৃতি দেওয়া দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে।
সূত্র: পি আই বি