ওয়েব ডেস্ক; ৭ জানুয়ারি: আর্থিক সংযুক্তিকরণের লক্ষ্যে প্রথম জি-২০ বিশ্ব জোড়া অংশীদারিত্ব শীর্ষক বৈঠকটি ভারতের অধ্যক্ষতায় জি-২০ আলোচনামালার প্রথম অধিবেশন রূপে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতায় আগামী ৯-১১ জানুয়ারি। সদস্য দেশগুলি ছাড়াও ভারতের আমন্ত্রিত অতিথি রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিনিধিরাও এই অধিবেশনে যোগ দেবেন জি-২০ গোষ্ঠীর সভাপতিত্বে ভারতের আর্থিক সংযুক্তিকরণের আলোচ্যসূচী অনুযায়ী মতবিনিময়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
জি-২০ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আর্থিক রূপরেখাটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আলোচনা ও নীতি সংক্রান্ত সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি কার্যকরি মঞ্চ উপস্থাপিত করে। বিশ্ব জোড়া ম্যাক্রো ইকনমি বিষয়গুলি নিয়ে গোষ্ঠীর অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পরিচালক এবং বিভিন্ন কর্মী গোষ্ঠীর বৈঠকের মাধ্যমে। এই আর্থিক রূপরেখা যেসব প্রধান বিষয়গুলি নিয়ে চর্চা করে, তার মধ্যে রয়েছে – বিশ্বের আর্থিক পরিমণ্ডল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির তদারকি; আরও স্থিতিশীল এবং প্রতিরোধক্ষম বৈশ্বিক আর্থিক গঠন; আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থা; সঠিক গুণমানসম্পন্ন পরিকাঠামোর জন্য অর্থের যোগান; সুস্থায়ী অর্থ তহবিল; আর্থিক সংযুক্তিকরণ; আর্থিক ক্ষেত্রে সংস্কার এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আপৎকালীন অবস্থা এবং অতিমারী রোধে বিনিয়োগের ব্যবস্থা, প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া।
ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বের ভিত্তিমন্ত্র হ’ল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ অর্থাৎ ‘এক বিশ্ব এক পরিবার এক ভবিষ্যৎ’, যা সমহারে বিকাশ এবং সকলের জন্য সমান ভবিষ্যতের বার্তা বহন করে। কোভিড পরবর্তী সময়ে বিশ্বের আর্থিক চালচিত্রের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলি বিশ্ব জুড়ে জন-কেন্দ্রিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা ও লক্ষ্যবিন্দু নতুন করে স্থির করার দাবি রাখে। তাই, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সমাজের বিপন্ন অংশের আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য আর্থিক সংযুক্তিকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সুস্থায়ী এবং সংযুক্তি অর্থনীতির উপর এর ইতিবাচক প্রভাব আছে।
তিন দিনের এই অধিবেশন শুরু হচ্ছে আর্থিক সংযুক্তিকরণ এবং উৎপাদনশীলতার লাভকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ডিজিটাল সর্বজনীন পরিকাঠামোর ক্ষমতাকে উন্মুক্ত করা শীর্ষক এক সিম্পোসিয়ামের মাধ্যমে। এর সঙ্গেই রয়েছে – আর্থিক সংযুক্তিকরণের জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন শীর্ষক এক প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে ডিজিটাল আর্থিক সংযুক্তিকরণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ভারতের কৃতিত্ব ও প্রয়াসকে তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে আলাপচারিতামূলক আর্থিক সাক্ষরতা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক ভিডিও ব্যক্তি-সাধারণের জন্য ডিজিটাল সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার প্রবাহ ইত্যাদি। এছাড়াও, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, অর্থ প্রযুক্তি সংক্রান্ত সংস্থাগুলির অর্জিত কৃতিত্ব এখানে তুলে ধরা হবে।
এই সঙ্গে থাকবে – জনঅংশীদারিত্বমূলক এক আলোচনাচক্র। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১৮০০ জন ছাত্রছাত্রীকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন, বীমা, বিনিয়োগ প্রতারণা থেকে সুরক্ষা এবং ক্ষোভ প্রতিকারের ব্যবস্থা ও পন্থা-পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
জিপিএফআই পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন চলবে দু’দিন ১০ ও ১১ জানুয়ারি এবং এখানে আর্থিক সংযুক্তিকরণকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ডিজিটাল সর্বজনীন পরিকাঠামোর ভূমিকা বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর খরচ কমানো, ডিজিটাল আর্থিক সংযুক্তিকরণ এবং ক্ষুদ্র, অণু ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের জন্য অর্থ যোগানের বিষয়টিতে অগ্রগতির জন্য জি-২০ উচ্চ পর্যায়ে গৃহীত নীতিগুলি রূপায়ণের ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তার মূল্যায়ন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হবে।
ভারতের জি-২০ সভাপতিত্ব যেসব দেশের প্রয়োজন খুব বেশি, তাদের উদ্বেগগুলি তুলে ধরার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির আশঙ্কা ও আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর আলোচ্যসূচী গ্রহণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আজকের দুনিয়ায় অর্থনীতির চাহিদাকে সংযুক্ত উপায়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, এক সুন্দরতর ভবিষ্যৎ রচনার জন্য অর্থ মন্ত্রক ও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জি-২০ আর্থিক রূপরেখাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
