মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়

৩য় পর্বের পর….

এক টুকরো ঝরো হাওয়া যেন আছড়ে পড়লো পলার চোখে মুখে, চিনি গুলতে থাকা চামচটাও যেন বিস্ময় প্রকাশ করে থেমে গেল। তাহলে টিয়ার লো কাট ব্লাউজের ফর্সা পিঠ অরূপও চেটেপুটে খায়! ছিঃ!পলার মুখে কোন ভাষা যোগাল না। “তা ওই সব ট্যাটু কি এই বয়েসে তুমি করবে? ডিসগাস্টিং! সব কিছুর একটা বয়েস আছে

পলা!” পলা নির্বাক চোখে সত্তর ছুই ছুই অরূপের চুলের বার্গেন্ডি কালার, রিপড জিন্স আর হাতের

কাঠ আর কড়ির রিষ্ট ব্যান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকল বেশ কিছুক্ষণ।

“তাই বুঝি?” বলেই চায়ের কাপটা ঠক করে টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল। এই বিষয়ে

আর কোন কথা আলোচনার ইচ্ছে তার হল না। পলা মনে মনে ভাবল নন্দিনীকে বলবে তার ইচ্ছের কথা। হাজার হোক মেয়ে তো তারই তো অংশ। ঠিক বুঝবে মাকে। সন্ধেবেলা ফোনে নন্দিনীকে সব জানানোর সাথে সাথেই নন্দিনীর রিয়েকশান দেখে পলার ‘বুঝতে একটুও দেরি হল না যে নন্দিনী আসলে ‘পাপাস ৬টার’। সকাল হতেই কৃষ্ণের ফোন “এই সব কী শুরু করেছে। মা। গরদের শাড়ি নয়, পুজোর বাসন নয় শেষে কিনা এই বয়েসে ট্যাটু। তুমি পারও বটে। এই সব ভূত মাথা থেকে নামাও দেখি। বিকেলে তানিকে পাঠাবো বেলুড় থেকে ঘুরে এসো, মন ভালো হবে, কেমন।” ছেলের কথা শেষ হতেই ফোনটা কেটে দিলো গলা। অকারণ বাক্যালাপ তার পছন্দ নয়। পলা ফোনটা রেখে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। সকালের ঠাণ্ডা হওয়া পলার চোখে মুখে খানিকটা ঠাণ্ডা স্পর্শ দিয়ে গেল। নার্ভের ভেতর এতক্ষণ যে উত্তেজনার স্রোত বয়ে যাচ্ছিল সেটা এখন কিছুটা হলেও শাও।

ক্রমশ…..