ডিজিটাল;১৬ই এপ্রিল; কলকাতা: অনলাইন সেলস প্লাটফর্ম গুলির অনৈতিক এবং একচেটিয়া ব্যবসায়িক নীতি দেশের দেড় লক্ষ সাধারণ মোবাইল ফোন বিক্রেতার ভবিষ্যতে উপর বিপদ ডেকে আনছে বলে দাবি অল ইন্ডিয়া মোবাইল রিটেলার অ্যাসোসিয়েশন(AIMRA)। সারাদেশের ১.৫ লক্ষের বেশি মোবাইল বিক্রেতাদের যৌথ মঞ্চ এই সংগঠনের সদস্য গোটা দেশের শত শত ঘুচরো মোবাইলফোন বিক্রেতা এবং সংগঠনের শীর্ষ কর্তারা ১৬ এবং ১৭ই এপ্রিল কলকাতায় সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিচ্ছেন। এবছরের বার্ষিক সাধারণ সভায় খুচরো মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের সামনে উদ্ভূত অস্তিত্বের সংকট এবং তার মোকাবিলা পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়, এর মোকাবিলার পাল্টা কৌশল এবং তার উপায় খুঁজতে বিশেষ চিন্তন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
AIMRA- পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি মোহন বাজেরিয়া বলেন, “আমরা বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা এবং অনলাইন সেলস চ্যানেল এবং পোর্টালের অনৈতিক ব্যাবসায়িক কৌশলের সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিরন্তর লড়াই করে চলা দেশের দেড় লক্ষ তৃণমূল স্তরের মোবাইল বিক্রেতা সুরক্ষার দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিস্তারিত দাবি সনদ পেশ করতে চলেছি। বড় বড় সংস্থাগুলির এই অনৈতিক ব্যবসায়িক কৌশল কখতে সরকারের কাছে আমরা নতুন নিয়ন্ত্রণ বিধি তৈরি অথবা কমপক্ষে বর্তমান বিধিনিষেধ গুলোকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানাচ্ছি।
ভারতে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের স্মার্টফোনের বাজার গোটা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সব থেকে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়া মোবাইল ফোনের বাজার। ২০২১ সালে বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাণকারী ব্র্যান্ডগুলি তাদের সর্বাধিক সংখ্যক মাল এদেশেই রপ্তানি করেছে। কোন জনিত লকডাউন এর কারণে দেশের স্মার্টফোনের ৫০% বাজার দখল করে নিয়েছে অনলাইন প্লাটফর্ম গুলি |
AIMRA সাধারণ সম্পাদক মৃদুল বিশ্বাস বলেন, “বৃহৎ আর্থিক ক্ষমতা সম্পন্ন এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সংস্থাগুলির খুচরা বাজারে পদার্পণ মোবাইল শিল্পের ছোট বিক্রেতাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের দরজা খুলে দিয়েছে। নতুন একটি বঞ্চনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে যেখানে বৃহৎ সংস্থাগুলি নিজেদের তৈরী শর্ত ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদল করে ব্যবসায়িক কাজকর্মে স্বচ্ছতা আনতে সরকারের পদক্ষেপ করা উচিত।”
রাজ্য সহ-সভাপতি সঞ্জীব পাল বলেন, “মোবাইল ফোনের ছোট বিক্রেতাদের স্বার্থে সরকারের উচিত জিএসটি সংক্রান্ত নিয়ম কানুন আরও সহজ করা। যাতে তাঁরা সহজে এগুলোকে বুঝে তা মেনে কাজ। করতে পারেন। বর্তমানে জিএসটি সংক্রান্ত নিয়ম কানুন ছোট মোবাইল বিক্রেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তাদের কাছে এগুলো খুবই জটিল এবং তাদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করছে।”
পাশাপাশি AIMRA দেশব্যাপী একটি রক্তদান কর্মসূচি চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি চালাচ্ছে যেখানে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে সারাদেশের মোবাইলফোন বিক্রেতারা অংশ নেবেন। সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় কোর কমিটির সদস্যরা এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কৈলাস লক্ষ্মীয়নি, অন্যতম পরামর্শদাতা জাতীয় সভাপতি অরবিন্দ খুরানা, বরিষ্ঠ জাতীয় সহ-সভাপতি বিভৃত্তি প্রসাদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকী পাঠক প্রমুখের উপস্থিতির কথা রয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মোবাইল রিটেলার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১৬ এপ্রিল এক সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।
