বন্দর, নৌপরিবহন এবং জলপথ মন্ত্রক সারা দেশের প্রধান বন্দরগুলিকে সবুজ বন্দর হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে তাদের পরিবেশগত কর্মক্ষমতা উন্নত করা যায়। বন্দর, নৌপরিবহন এবং জলপথ মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল আজ সমস্ত বন্দরের চেয়ারপার্সনদের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর (এসএমপি) এর চেয়ারম্যান শ্রী বিনীত কুমার অংশ নেন। শ্রী কুমার সবুজায়নের উদ্যোগ সম্পর্কে এসএমপি কলকাতার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন।

কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০ এর লক্ষ্য অর্জনে ১৪৩টি উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে ৬৮ টি উদ্যোগ নিরাপদ, সুস্থায়ী এবং সবুজ সামুদ্রিক ক্ষেত্র হিসাবে বিশ্বের প্রথম সারিতে রয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

সিআইআই ইস্টার্ন রিজিয়ন সিআইআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্স – সিআইআই গ্রীন বিজনেস সেন্টার হলের প্রযুক্তিগত সহায়তায় সবুজ বন্দর গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্পে কাজ করছে, যেখানে হলদিয়া এবং কলকাতা ডক ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হবে এবং বায়ুর গুণমান, শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জল ইত্যাদি সম্পর্কে কি করা যায় তা নিয়ে সুপারিশ করা হবে।এ সমস্ত কাজ এবং সুপারিশ মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০ এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।এ বিষয়ে সিআইআই-এর একটি দল সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছে,আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছে ও তথ্য সংগ্রহ করেছে।

জাহাজগুলিতে তীরে নোঙর করে থাকার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ১৩টি বার্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে।কেডিএস-এর বিভিন্ন কার্যালয়/প্রাঙ্গণে ইতিমধ্যেই ওয়াটার হার্ভেস্টিং ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করা হয়েছে।এমনকি কেডিএস-এ ছাদের মাথায় ১৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বায়ু দূষণ রোধ করতে ডাস্ট সুইপিং মেশিন সহ নানান ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডক এলাকা থেকে প্লাস্টিক নির্মূলের লক্ষ্যে প্লাস্টিক সংগ্রহের জন্য একটি পৃথক সংস্থা নিযুক্ত করা হয়েছে।গ্রিন বেল্ট এলাকার প্রয়োজনীয়তা, বায়ুর গুণমান, বিকল্প জ্বালানীর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার কাজ চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য এসএমপি কলকাতা ২০৩০ সালের মধ্যে যেগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে :-

২০২২ সালের মধ্যে কলকাতা ডকে ছাদের উপর সৌর প্ল্যান্ট সহ ২০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে কেপিডি শেড বসানো হবে। কিছু সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে শালুকখালী এবং কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের আওতাধীন জেলিংহাম জমির একটি অংশে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হবে। নেতাজি সুভাষ ডকে অত্যাধিক আলো ও সেন্সরের ব্যবস্থা করা হবে।কলকাতা এবং হলদিয়া উভয় ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত নিকাশী ব্যবস্থা করা হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হাসপাতালগুলির আধুনিকীকরণ করা হবে।