শমিত মন্ডল
সপ্তম পর্বের পর…….
ভুবন উঠে দাঁড়াল। বাঁদর তাড়াবার লাঠিটা দিয়ে সজোরে পাগলের মাথায় আঘাত করল। পাগল মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়ল। নিমেষেই মধ্যে লোক জমে গেল। কোতোয়াল বাজারে ছিল— রাজ-খাজনা আর আপনা-খাজনা আদায় করছিল। ভুবনের কোমরে দড়ি পড়ল।
পাগলের সেবাযত্ন চলতে লাগল। মহাদেব কবিরাজ খবর পেয়ে ছুটে এলেন। একটু পরে ধাতস হয়ে পাগল পরিষ্কার কণ্ঠে বলল- আমার মাথায় বহেড়া চূর্ণের প্রলেপ দাও।
মহাদেব কবিরাজ এই উন্মাদের কথা শুনে বিস্মিত হলেন। সে এবারে এমন একটি রসায়নের কথা বলল যেটি রক্ত বন্ধ হওয়ার অব্যথ ওষুধ। কবিরাজ বুঝতে পারলেন। আঘাতে শাপে বর হয়েছে— উন্মাদের হারানো স্মৃতি ফিরে এসেছে। তিনি সশ্রদ্ধ গলায় বললেন – তুমি কোন দেশের লোক বাবা ? আমি চম্পক নগরের বাসিন্দা। আমার নাম চন্দ্রধর বনিক। লোকে আমাকে চাঁদ সদাগর বলে চেনে।— লোকটি স্মিত হেসে জবাব দিল।
মস্ত একটা শোভাযাত্রা চলেছে। শোভাযাত্রার আগে শাস্ত্রী- সহ নগর-কোটাল। পাশে তার দেহরক্ষী শ্রীধর। শ্রীধর তার বয়স্যও বটে। এদের পিছনে হাত বাঁধা ভূষণ ময়রা। একজন শাস্ত্রী মাঝে মাঝে তাকে বেত্রাঘাত করছে। একটা দুই দেওয়া গো- শকটে শায়িত চন্দ্রধর। তার মাথায় ফেট্টি বাঁধা। পাশে বসে আছেন মহাদেব কবিরাজ আর তার সহকারী কার্তিক চন্দ্ৰ।
ক্রমশ…….
