ওয়েব ডেস্ক: কাজুবাদামকে “পুষ্টির খনি “বলা হয়। কাজুর বৈজ্ঞানিক নাম Anacardium occidentale। কাজুবাদামের উৎপত্তিস্থল ব্রাজিল। বর্তমানে প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, কেনিয়া, মোজাম্বিক, তানজানিয়া, মাদাগাস্কার প্রভৃতি দেশে কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়ে থাকে।
কাজুবাদাম কিন্তু আমরা কম-বেশি সকলেই ভালোবাসি। একটা কিংবা দুটো নয়, অপূর্ব স্বাদের জন্য মুঠো মুঠো করেও কিন্তু মাঝেমধ্যে খেয়ে ফেলি। কখনো স্ন্যাকসে, পায়েস, চাটনি,হালুয়া,বাদাম ক্ষীর,ডেজার্ট,আবার কোনো কোনো সময়ে কাজুবাদামম বাটা রান্নায় ব্যবহার করে থাকি। কি!! তাইতো?
স্বাদের ও পুষ্টিগুণের উপকারিতার দিক থেকে বাদামের কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। কাজুতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন- সি, ভিটামিন- ই, মিনারেলস(ক্যালসিয়াম,সেলেনিয়াম,কপার,ম্যাগনেসিয়াম,পটাশিয়াম),ওমেগা- থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড,ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। চলুন কাজু বাদামের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—
কাজু বাদামের উপকারিতা:-
১) স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে কাজুবাদামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই কাজুবাদাম “ব্রেনের পাওয়ার বুস্টার” নামে খ্যাত।
২) কপার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের গুণাগুণে ভরপুর কাজু ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কাজুতে উপস্থিত কপার অন্যান্য উৎসেচকের সঙ্গে কোলাজেন তৈরি করে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে দেয় এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলি কমাতেও সহায়তা করে।
৩) কাজুতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা গুড ফ্যাট রয়েছে, যা আমাদের হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। ভালো কোলেস্টেরল বা গুড কোলেস্টেরলের ( এইচ ডি এল) মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল বা ব্যাড কোলেস্টেরলের( এল ডি এল) মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কম হয়।
৪)বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে,কাজুবাদাম ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া কাজুতে রয়েছে প্রো-অ্যান্থোসায়ানিডিন নামে এক ধরনের ফ্ল্যাভোনল, যা টিউমার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৫) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামে সমৃদ্ধ কাজুবাদাম হাড় শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে।
৬) কাজু বাদাম ফাইবার ও প্রোটিনের একটি ভালো উৎস, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল করতে সক্ষম ।
৭) কাজু বাদামের মধ্যে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট;যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
৮) কাজু বাদাম রক্তশূন্যতা( অ্যানিমিয়া)দূর করতে সহায়ক; কারণ কাজু বাদামের মধ্যে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন;যা রক্ত শূন্যতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিঃ দ্র – কোনো খাবারই কখনো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।অবশ্যই ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে কাজুবাদাম( কতটা পরিমাণ জরুরি আপনার শরীরের জন্য) খেতে পারেন।
