সব্যসাচী

বাড়ি থেকে তারা কেউ বেরিয়ে এসেছিলেন নিজের অজান্তেই। আবার কেউ বাড়িতে থাকতে না পেরে পথে বেরিয়ে এসেছিলেন। বিভ্রান্ত এবং দিকভ্রষ্ট এই মানুষগুলোকে দফায় দফায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো আশ্রয় খোঁজে তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়ে নেয়। তবে আজকের বিষয়টি কিছু মহিলাদের প্রসঙ্গে। কেউ এসেছেন দক্ষিণ ভারত থেকে, কেউ বা পুরুলিয়ার ঝালদা, কেউ বা কোন হিন্দি বলয় থেকে।
এরা কেউই তাদের বাড়ি কোথায় বলতে পারছে না। এটা এক ধরনের অ্যালঝাইমার বলা যেতে পারে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে এসে পড়ে। তাদের মানসিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডা. সুচন্দা ব্রহ্ম, একজন মহিলা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। যিনি ভারতীয় হলেও আমেরিকার নাগরিক এবং বছরে ৬ মাস তিনি ভারতে থাকেন। এ কাজে তার সাথে যুক্ত হয়েছেন তার সহোদর প্রেমাশীষ ব্রহ্ম। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, তিনিও আমেরিকার নাগরিক যদিও জন্মসূত্রে ভারতীয়। সুদূর দক্ষিণ ২৪ পরগনার তালদি থেকে আরো অনেক দূর ভেতরে জীবন তলায় গ্রামের মধ্যে এই মহান কর্মযজ্ঞ নিঃশব্দে করে চলেছেন পাঁচজন সক্রিয় সদস্য। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ১২ বিঘা জমির উপরে মাছ চাষ করে যেমন বিক্রি করছেন, আবার সেই পয়সা দিয়ে এই আশ্রিতদের কিছুটা হলেও ভরণপোষণের কাজ চালাচ্ছেন।
জীবনতলার এই আবাসনটিকে স্থানীয় মানুষ বলে “পাগলের আশ্রম”।