ডা চন্দ্রগুপ্ত

১৫ তম পর্বের পর…..

মুহূর্তে এই কথাটি রওনকের বাবাকে ছুয়ে গেল, মনের মধ্যে ঘুরপাক খেয়ে গেল একটা জিজ্ঞাসা। দল তাহলে তাকে এখনো মনে রেখেছে! নাকি ধুরন্দর প্রণব বসুর এটা কোন দাবার চাল। অবশ্য এ বয়সে নতুন করে পার্টিকে উনি আর কিছুই দিতে পারবেন না। চাঁদা–লেভিতেই দলকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ছোট ছেলে রৌনক তো অন্য দলেই নাম লিখিয়েছে।

‘প্রগতিশীল দল আমাদের থেকে এই পয়েন্টেই পিছিয়ে রয়েছে। কারণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যে আমরা অ্যাকশন নেই, ওরা নিতে পারে না।’ আড় চোখে রৌনকের বাবাকে দেখে কথাগুলো রৌনককে বলল প্রণব বসু। রৌনকের বাবা জানে যে প্রণব বসু মিথ্যে বলছে। সবটা না হলেও কেন খানিকটা। কিন্তু উনি প্রতিবাদ করলেন না। প্রণব বসুর আর ওর দলের ছেলেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ওনার জিহ্বাতে একটা জড়তা এনে দিল।

এরপর থেকে একবার, দুইবার বার বার চলতে থাকে ব্রেইন ওয়াশ। কখনো কানাই, কখনো প্রণব বসু। পাল্টে যাচ্ছে তার শিষ্য এটা বুঝে ঝাঁপিয়ে ছিল পুলক। মরিয়া হয়ে কাছে শিষ্যকে টানতে গিয়েছিল রৌনকদের বাড়িতে। কিন্তু বিধি বাম। রৌনকের বাবা পুলককে অ্যালাউ করেননি।

পোস্ট অফিস রোডে দেখা হয়েছিল প্রণব বসুর সাথে। একেবারে নিজের স্বাভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রণব পুলকের সাথে কথা বলেছিল। ছেলেটাকে তো লেখাপড়াতে ভালোই তৈরি করেছিল, কিন্তু প্রতিবাদী রৌনককে দলের ছেলেরা কেন বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি তার জন্যে কিছু করতে পারলে পুলক?’ প্রণব বসুর আচমকা আক্রমণে ঘাবড়ে গিয়ে আমতা আমতা করতে থাকে পুলক। কেউ যেন পুলকের গায়ে গরম জল ছিটিয়ে দিল।

ক্রমশ.……