প্রবীর আচার্য
প্রথম পর্বের পর……
বৃষ্টির জল স্থলভাগকে ধৌত করে মাটির লবণকে দ্রবীভূত করে, বয়ে নিয়ে গিয়ে নদীর মাধ্যম আবার সমুদ্রে ফেলে। এই চক্র কোটি কোটি বছর ধরে চলতে থাকায় সমুদ্রে লবণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এভাবেই সমুদ্রের জল হয়েছে লবণাক্ত। তাই কবি বলছেন, সাগরে পড়িলে নদীর মরণ নাহি হয়, সেই সাগর থিক্যা হয় রে বন্ধু ম্যাঘেরই উদয়।…
ছোটোবেলায় দেখেছি নুন আসতো চটের বস্তায়। লাল রঙের গোটা গোটা অনিয়মিত আকারের দানাওয়ালা সেই নুনকে বলতো খাড়ি নুন। তার সঙ্গে সামুদ্রিক ময়লাও থাকতো। আর একরকম নুন আসতো পেষাই-নুন, সেটা কিছুটা সাদা। ওই গোটা নুনকেই পেষাই — করা হত। তবে দু-রকম নুনই ব্যবহার হত রান্নার কাজে। দামের মধ্যেও বিশেষ ফারাক ছিল না। নুনের বস্তা নটকানা দোকানের (মুদিখানা) একপাশে অবহেলায় পড়ে থাকতো, কারণ নুনের দাম ছিল খুবই নগণ্য। দোকানে মশলাপাতি কিনলে দোকানদার কিছুটা নুন এমনিতেই দিয়ে দিত অনেক সময়, এতটাই অপাংত্তেয় ছিল তা।
আগেকার দিনে নুন তৈরির পদ্ধতি ছিল অতি সাধারণ। যার জন্য নুনের দাম ছিল কম। সমুদ্রের ধারের জমিতে উঁচু আল দিয়ে রাখা হত। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার ভরা কোটালে জোয়ারের জল ওই আল দেওয়া জমিতে ঢুকে যেত। তারপর কয়েকদিন ধরে সূর্যের আলোয় জলটা শুকিয়ে গেলে জমির উপরে জমে থাকতো রাশি রাশি লাল রঙের দানা নুন ।
ক্রমশ…….
