শ্রেয়া ঘোষাল
পঞ্চম পর্বের পর……
ঘরটা খুব অদ্ভুতভাবে সাজানো। বিশাল ফ্রেমে আটকানো ছবিতে প্রাগৈতিহাসিক সব বৃক্ষ, প্রাণী পশু। এই পৃথিবীর নয় কিছু।
এই সময়ের ও নয়। ভদ্রমহিলার পোশাকই বা কোন দেশের কে জানে। আলখাল্লার মতো কিছু। রক্তহীন মুখ। কাঠিকাঠি হাত। কন্ঠা, চোয়ালের হাড়গুলো প্রকটভাবে ঠেলে বেরোন ভাঙা হিন্দিতে ইংরেজির মিশেল। ছবি এনেছেন? ফাইল খুলে ছবির গোছাটা বের করে দিলাম। উল্টেপাল্টে দেখে সামনের জলচৌকির ওপর কয়েকটা ছড়িয়ে দিলেন। বিচ হ্যায়না ?
ফির উনকি নাম নাড়ু ক্যায়সে? মেবি সাম মেল ডগস উইল বিকামিং টু ইউ, হোয়েন ইউ থিঙ্ক অফ হার। ঘরে ধূপ জ্বলছিল। একটা পিতলের প্রদীপ জ্বালিয়ে নিলেন। সো বিউটিফুল! বহৎ খুব সুরৎ। ইনকি কম্পেক্সন দেখা হ্যায় আপনে কভি ঠিকস? কিতনি ডার্ক অ্যাও রীচ। পাতা হ্যায় আপকি?
নীলনদের জলের নীচে যে মাটি, সে মাটিতে মিশে আছে হাজার মানুষের সুখ, দুঃখ, কান্না হাসি। সে মাটিতে প্রাণ আছে। হাত দাও যদি ধুপকুপ, ধুকপুক। ইউ ক্যান ফীল দা রিদম, দা ওয়ামর্থ। সেই জিয়ন্ত মাটি ছেঁচে মাদার নেচার পেয়েছেন এই গায়ের রঙ।
বড় যত্নে। এই কুকুরীর মৃত্যু নেই, এখানে ওর কাজ শেষ হলে শি উইল গার্ড দা ডোর্স হেভেন। কেমন ঘোরের মধ্যে বলে চলছিলেন অব্যক্ত। আমার বুক মুচড়ে কান্না আসছিল ঢেউ এর মতো। ভদ্রমহিলা স্থির হয়ে বসতে পারছিলেন না।
ক্রমশ ……
