ধ্রুব দে

পঞ্চম পর্বের পর……

কার্যত বারঘর ভিতর বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। অভাব তো নেই। ছেলে শহরে বড় এক কোম্পানিতে চাকরি করে, নিজেও কিছু করে, জমিজমা আছে। তবে অশোকের ব্যবস্থাটা ভালো লেগেছিল। ভিতর বাড়ির লোকজন, এমনকি কলির বাবার সঙ্গেও দেখাসাক্ষাৎ হত না প্রায়।

সব ঠিকঠাকই চলছিল। তাল কাটল কলির বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর। এতদিনে অবশ্য অশোকের এ বাড়িতে আড়াই বছর কেটে গেছে। একেবারে দিনক্ষণ ঠিক হয়ে যায়। সুখে থাকবে কলি। হোক না অল্প বয়স। মেয়েদের কম বয়সেই নিজের সংসার বুঝে নেওয়া ভাল। কথাগুলো লোকের মুখে মুখে তখন।

লোকমুখেই সব শুনেছে অশোক। আর ভয়ে ভয়ে দিন কাটিয়েছে। বিয়ের অজুহাতে তাকে বাড়ি ছাড়তে বলে যদি! এমন সুবিধে এ তল্লাটে আর কোথায় পাবে অশোক?

এর মধ্যে একদিন ভোরবেলা কলির বাবা আর শহুরে দাদা তার ওপর হামলে পড়ল। বড়লোক ছেলে বিগড়েছে, দেশ-গাঁয়ের ব্যাপার জানাজানি হয়ে গেছে, ওই লগ্নে বিয়ে না হলে ঢি ঢি পড়বে। মেয়েটা অথৈ জলে পড়বে। অশোককে উদ্ধার করতে হবে। নানা যুক্তিজালে পর্যদুস্ত অশোক বেগতিক বলেছিল, বাবা-মার সঙ্গে কথা বলুন।

ক্রমশ……