ধ্রুব দে

ষষ্ট পর্বের পর…..

ব্যস, কালক্ষেপ না করে তখুনি ছুটেছিল তারা বাবা-মায়ের কাছে। এত দ্রুত সব ঘটে যাবে অশোক বুঝতে পারেনি। রোজ রাতে যেমন ফোন করে, তেমন ফোন করে বাবা-মাকে সব বলবে ভেবেছিল অশোক। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। অভিমানী মা শেষে বলেছিল, আমাদের তুই জানাতে পারতিস। আমরা কি আপত্তি করতাম?

তার কোনো কথা শুনতে চায়নি কেউ। বাবা-মার সব কথা বুঝতেও পারেনি ও।

বাবা বলেছিল, ঘটনা যখন একটা ঘটেছে, তার সমাধান তো করতে হবে। অথচ অশোক নিশ্চিন্তে ছিল, এ দায় মাথায় নেবে না বাবা-মা। বিয়েতে রাজি হবে না। কেন রাজি হয়েছিল? তবে কি কলির বাবা-দাদা কোনো গল্প ফেঁদেছিল, মিথ্যা কোনো গল্প? মাঝে মাঝে বিদ্রোহ করে মন। কিন্তু তার শিক্ষা নীতিবোধ গুটিয়ে রাখে।

কলি কষ্ট পায়, অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে ও। অশোক বোঝে। ভালোবাসার মানুষ কাছে না টেনে নিলে কি জ্বালা, অশোক জানে। তবু মেয়ের প্রতি অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। কতবার পই পই করে বলেছে অশোক, মিতুর থেকে চোখ সরালে হবে না। সব সময় চোখে চোখে রাখতে হবে। তাতে কাজ পড়ে থাকলে, থাক। দিনের শেষে এক তরকারি ভাত না হোক, ভাতে ভাত হলেও সই। কিন্তু মিতুর অযত্ন যেন না হয়। দুরন্ত বাচ্চা কখন কী করে ঠিক নেই। চার হাত দূরে পুকুর, দশ হাত দূরে পায়খানা। — অন্যমনস্কতার সুযোগ কোন দিকে যায় কে বলতে পারে। যদিও ওর দাদু, কলির বাবা বেড়া বেঁধে সব পথ আটকে দিয়েছে।

ক্রমশ……..