ডিজিটাল; ১৯ এপ্রিল: কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবর্ষে পণ্য ওঠা-নামা কম হলেও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর ২০২১-২২ অর্থবর্ষেও লাভের মুখ দেখেছে। বন্দরের চেয়ারম্যান শ্রী বিনীত কুমার জানান, এই অর্থবর্ষে ১৬ হাজার কোটি টাকা লাভ হয়েছে।

কলকাতা পোর্ট গেস্ট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমার জানান, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ৩৬ লক্ষ টন পণ্য সামগ্রী রপ্তানি হয়েছে। প্রতি বছর এই বন্দর থেকে বাংলাদেশে ৯০ হাজার টন পণ্য সামগ্রী রপ্তানি করা হয়। চেয়ারম্যান জানান, জলপথ ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহণ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের মাধ্যমে আসা পণ্য সামগ্রী এই বন্দর থেকে অন্যান্য জায়গায় পাঠানো হচ্ছে। বন্দর সংলগ্ন অঞ্চলে গাড়ি রাখার জায়গা বাড়ানো হচ্ছে।

কুমার আরও জানিয়েছেন, জাহাজ মেরামতি ও জাহাজ নির্মাণের জন্য নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তারাতলায় ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাসকুল সেতু ও শালুকখালি সেতু রক্ষণা-বেক্ষণে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও জানান, পিএম গতি শক্তি প্রকল্পের আওতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত করলো। এই বন্দরকে পূর্বাঞ্চলের অগ্রণী ক্রুজ সেন্টার হিসাবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৩-৪টি ক্রুজ টার্মিনাল গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও, নদী তীরের সৌন্দর্যায়ন এবং খিদিরপুরে ৩১ একর জমিকে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সাগরমালা প্রকল্পের সপ্তম বর্ষপূর্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে চেয়ারম্যান জানান, এই প্রকল্পে ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আরও ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি যোগ করেন , রেল, সড়ক এবং জাতীয় জলপথ ১ ও ২ – এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় কলকাতা বন্দরের বাড়তি কিছু সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে হলদিয়ায় আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে হলদিয়া ডকে আধুনিক বার্থ – এর সাহায্যের পণ্য পরিবহণ করা হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে হলদিয়া ডকে ৫৪ লক্ষ ৭৪ হাজার টন রান্নার গ্যাস পরিবহণ করা হয়েছে, আগের অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৪৮ লক্ষ ৪৮ হাজার টন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরকে ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক ইন্সটিটিউট’ কাজ করার আদর্শ স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। বন্দরের কর্মীরা তাঁদের কর্মস্থলের বিষয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট বলে এই স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। বন্দরের ৯৩ শতাংশ কর্মী বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থাশীল, ৯১ শতাংশ কর্মী এই বন্দরে কাজ করে গর্বিত এবং ৮৫ শতাংশ কর্মীর তাঁদের কর্মস্থলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক ইন্সটিটিউট’কে জানিয়েছে।