দেবাঞ্জন দাস: মহামারী শুরু হবার পর থেকেই মানুষের মনে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নিত্য সচেতনতা চোখে পড়েছিল। দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে প্রোটিন, ফ্যাট, ইমিউনিটিযুক্ত খাবারগুলো মানুষ বেশি ব্যবহার করছিল। রাস্তাঘাটের খোলা খাবার নৈব নৈব চ। উপরন্তু বাকিদেরও সেই খাবার ‘না খাওয়ার’ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল।

কিন্তু যখন ধীরে ধীরে করোনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে কমছে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা, ধীরে ধীরে খুলছে দোকান, হাট-বাজার। মানুষ সাধারণ জীবনের দিকে এগোচ্ছে করোনা মহামারীর দাপটকে সঙ্গে করেই। কিছু মানুষের মধ্যে সচেতনতা থাকলেও তার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে বহু অসচেতন মানুষ। করোনা মহামারীর প্রকোপ যখন তুঙ্গে তখন রাস্তাঘাটের ফাস্টফুড, রাস্তার কাটা ফল, সরবত/জল এই সমস্ত ছিল মানুষের থেকে কয়েক মাইল দূরে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরেও দৈনন্দিন কাজে বেরোনো মানুষ রাস্তার খাবার থেকে, বাড়ি তৈরি করা খাবার খাবার দিকে উৎসাহ ছিল।

কিন্তু হঠাৎ করেই কেমন যেন ছন্দপতন হলো মানুষের স্বভাবের। সেই পুরনো ছবি আবার দেখা গেল খাস কলকাতাতে। রাস্তায় কেটে রাখা ফল থেকে শুরু করে ছোলা-বাদাম মাখা, সবকিছুই খোলা অবস্থায় পাওয়া যেতে লাগল এবং সাধারণ মানুষ সেইগুলো পুরনো দিনের মতো খেতে শুরু করল।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এবং কর্পোরেশনের নির্দেশ মত খাবার রাস্তায় খোলা অবস্থায় রাখা যাবে না। স্বাস্থ্য বিধি মেনেই করতে হবে রাস্তায় হকারি। কিন্তু সেই নির্দেশিকার তোয়াক্কা না করেই বিক্রেতারা সমস্ত খাবার খোলা অবস্থায় রাখতে শুরু করলেন।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে প্রশাসনের দিকে। তাদের সামনেই যেভাবে রাস্তার খাবার বিকোচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য কতটা নিরাপদ সেটাই একটা বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি লক্ষ্য করা যায়,
যেমনভাবে উদাসীন প্রশাসন, তেমনভাবেই উদাসীন সাধারন মানুষ। এই উদাসীনতা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় সেটাই এখন দেখার। করোনা মহামারী কি আবার কলকাতায় প্রবল দাপট দেখানো শুরু করবে?? নাকি কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গ সারা ভারতবর্ষের কাছে এবং পৃথিবীর কাছে একটা নিদর্শন হয়ে থাকবে যে অতি সত্বর করোনা মহামারী থেকে মুক্ত হয়ে সার্বজনীন ইমিউনিটি/ সামাজিক ইমিউনিটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে! সেটা কিন্তু বলবে আগামী দিন, সেটা বলবে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সক্রিয়তা কতটা ঊর্ধ্বগামী।