ওয়েব ডেস্ক; ২৪ জুলাই : রেনো ইন্ডিয়া লঞ্চ করল সম্পূর্ণ নতুন রেনো ট্রাইবার – ভারতের সবচেয়ে উদ্ভাবনীমূলক ৭ আসনবিশিষ্ট গাড়ি। এই নতুন ট্রাইবারে আছে নতুন ও আধুনিক ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর মত ফিচার। অন্যদিকে আছে মডিউলারিটির অনন্য ডিএনএ, যা rethink space ভাবনা অবলম্বন করেছে।
সবচেয়ে উদ্ভাবনীমূলক পারিবারিক গাড়ির নতুন প্রজন্ম পথ চলা শুরু করছে একেবারে নতুন করে ডিজাইন করা ফ্রন্ট ফ্যাশিয়া দিয়ে। এতে আছে জমকালো নতুন গ্রিল, নতুন খোদাই করা হুড, নতুন চেহারার বাম্পার, ইন্টিগ্রেটেড LED DRL সমেত নতুন ছিমছাম প্রোজেক্টর হেডল্যাম্প এবং নতুন DRL ফগ ল্যাম্প।
ভিতরের ডিজাইনের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, কেবিনটাকে নতুন চেহারা দেওয়া হয়েছে। বসেছে স্টাইলিশ ডুয়াল টোন ড্যাশবোর্ড। এটা মসৃণভাবে ৮ ইঞ্চি ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ডিসপ্লের সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড। সেই ডিসপ্লেতে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো আর অ্যাপল কারপ্লে ব্যবহার করা যায়। এই নতুন ইন্টেরিয়রে আরও আছে নতুন সিট আপহোলস্টরি, আধুনিক LED ক্লাস্টার, LED কেবিন লাইটিং এবং প্রিমিয়াম স্পর্শের স্বার্থে ব্ল্যাকড-আউট দরজার হ্যান্ডেল।
নতুন ট্রাইবারের পিছন দিকে আছে নতুন করে ডিজাইন করা বাম্পার, আপডেটেড LED টেল ল্যাম্প, নতুন স্কিড প্লেট এবং এমবেলিশারের সঙ্গে যুক্ত একটা কেতাদুরস্ত টেলল্যাম্প। এসবের ফলে গাড়িটার চেহারা পরিবর্তিত হয়ে একেবারে সমসাময়িক হয়ে উঠেছে।
৩৫ খানা নতুন ফিচারে সজ্জিত এই গাড়ি হল renault. rethink. ব্র্যান্ড রূপান্তর কৌশলে নির্মিত প্রথম প্রোডাক্ট। rethink space ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই গাড়ি শ্রেণির সেরা মডিউলার সিটিং জোগায়। এতে ৩য় সারির ইজি-ফিক্স আসনগুলোকে ৫, ৬ বা ৭ আসনের করে নেওয়া যায়। এর পরিপূরক হিসাবে আছে ৬২৫ লিটার পর্যন্ত জিনিসপত্র রাখার জায়গা, যা এই সেগমেন্টের সেরা বুট স্পেস। ফলে ক্রেতারা তাঁদের জীবনযাত্রার বিচিত্র প্রয়োজন মেটাতে গাড়িটাকে অনন্য ও উদ্ভাবনীমূলক উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন।
বিস্তর ভাবনাচিন্তা করে তৈরি এনহ্যান্সমেন্ট দিয়ে ডিজাইন করা নতুন ট্রাইবার এখন পাওয়া যাচ্ছে চারটে নতুন বিকল্পে – অথেন্টিক, ইভলিউশন, টেকনো এবং ইমোশন। ফলে জিনিসটা হয়ে উঠেছে প্রিমিয়াম মূল্যের গাড়ি, যার দাম শুরু INR 6,29,995 (Ex-showroom) টাকা থেকে। আজ থেকে সমস্ত ডিলারশিপে বুকিং চালু হচ্ছে।
- ডিজাইন ও ফিচারে ৩৫ খানার বেশি আপডেট: নতুন ট্রাইবারে আছে ৩৫ খানার বেশি আপডেট, যা এক সজীব ও প্রিমিয়াম ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা জোগাবে।
- সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করা ফ্রন্ট ফ্যাশিয়া: জমকালো নতুন গ্রিল, নতুন খোদাই করা হুড, নতুন করে ডিজাইন করা বাম্পার এবং উন্নততর LED প্রোজেক্টর হেডল্যাম্প, সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড LED DRL।
- একেবারে নতুন ড্যাশবোর্ড: আধুনিক, ডুয়াল-টোন ফিনিশ সমেত সম্পূর্ণ নতুন করে ডিজাইন করা ড্যাশবোর্ড লেআউট, যা মসৃণভাবে ইন্টিগ্রেট করা আছে ৮ ইঞ্চির ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ডিসপ্লের সঙ্গে। সাথে আছে তারবিহীন স্মার্টফোন সংযোগ।
- বর্ধিত সুরক্ষা প্যাকেজ: পাঁচটা নতুন সুরক্ষা ফিচার। এর মধ্যে আছে সমস্ত বিকল্পে সাধারণ মান হিসাবে ছখানা এয়ারব্যাগ আর সেগমেন্টের প্রথম ফ্রন্ট পার্কিং সেন্সর।
- ভবিষ্যতের কৌশলগত দিশা: renault. rethink. ব্র্যান্ড রূপান্তর কৌশলে এই প্রথম প্রোডাক্ট লঞ্চ হল। এতে সগর্বে লঞ্চ করা হয়েছে নতুন ব্র্যান্ড লোগো।
- প্রিমিয়াম ভ্যালু অফারিং: চারখানা আলাদা আলাদা বিকল্পে পাওয়া যাচ্ছে – অথেন্টিক, ইভলিউশন, টেকনো আর ইমোশন। দাম INR 6.29 Lakhs টাকা থেকে INR 9.16 Lakhs (ex – showroom) টাকার মধ্যে
নতুন ট্রাইবারে আছে ২১ খানা স্ট্যান্ডার্ড সুরক্ষা ফিচার, যার মধ্যে আছে ৬ খানা এয়ারব্যাগ, ESP, TPMS, ব্রেক অ্যাসিস্ট সমেত EBD। সুরক্ষা ফিচারগুলোকে আরও জোরদার করেছে ফ্রন্ট পার্কিং সেন্সর, যা এই সেগমেন্টে প্রথমবার পাওয়া যাচ্ছে।
লঞ্চ উপলক্ষে ভেঙ্কটরাম মামিল্লাপল্লে, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, রেনো ইন্ডিয়া, বললেন “ভারত রেনোর আন্তর্জাতিক কৌশলের ভিত্তি। রেনোকে চালনা করে একটা শক্তিশালী প্রোডাক্ট পাইপলাইন, ক্রমশ বাড়তে থাকা রফতানি এবং ক্রেতার সন্তুষ্টির উপর নতুন করে তৈরি হওয়া ফোকাস। এসবেরই দৃষ্টান্ত হল সম্পূর্ণ নতুন ট্রাইবার। এই গাড়িটা ভারতে প্রথম প্রোডাক্টও বটে, যাতে সগর্বে রেনোর নতুন ব্র্যান্ড লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এই লোগো কোম্পানির সাহসী, আধুনিক দিশা এবং ভারতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীর সঙ্গতির চিহ্ন।”
তিনি আরও বলেন “ভারতে নির্মাণ প্ল্যান্ট, গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র এবং ডিজাইন স্টুডিও সমেত সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড অপারেশন থাকায় রেনো এমন গাড়ি তৈরি করে যাচ্ছে যেগুলো বিশেষ করে ভারতীয় ক্রেতাদের জন্যই তৈরি – সত্যি সত্যি ভারতের দ্বারা, ভারতের জন্যে। নতুন ট্রাইবার ৯০ শতাংশের বেশি স্থানীয়, যা ভারতীয় বাজারের প্রতি রেনোর দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতাকে চিহ্নিত করে।”
এই নতুন লঞ্চের তাৎপর্য ঘোষণা করতে গিয়ে ফ্রান্সিসকো হিদালগো, ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং), রেনো ইন্ডিয়া, বললেন “ট্রাইবার বরাবরই ভারতীয় পরিবারগুলোর বদলাতে থাকা প্রয়োজন বোঝার যে গভীর ক্ষমতা আমাদের আছে তার প্রতিফলন হয়ে থেকেছে। এতে স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, মডিউলারিটি আর ব্যতিক্রমী প্রিমিয়াম মূল্যের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। একেবারে নতুন ট্রাইবারের মাধ্যমে আমরা আমাদের ‘rethink space’ ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছি। ফলে ভারতকে দিতে পারছি সবচেয়ে বেশি হাত-পা ছড়ানোর মত চার মিটারের কম মাপের গাড়ি, যাতে এখন থাকছে একেবারে নতুন ডিজাইন আর ফিচার। এই লঞ্চ of renault. rethink.-এর মেজাজটাকে জীবন্ত করে তুলল এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এটা আমাদের বৃদ্ধির গতি আরও বাড়িয়ে দেবে এবং ভারতে রেনোর অবস্থান আরও মজবুত করবে।”
সম্পূর্ণ নতুন ট্রাইবারের সর্বোচ্চ পাওয়ার আউটপুট হল 72 PS @ 6250 rpm and সর্বোচ্চ টর্ক হল 96 Nm @ 3500 rpm. ট্রান্সমিশন বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে 5-speed ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন, যা থাকছে সবকটা বিকল্পেই। সবচেয়ে দামি বিকল্প ইমোশন-এ উন্নত Easy-R AMT-ও পাওয়া যাচ্ছে, যা গাড়ি চালানোর স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা বাড়িয়ে দেবে। এই পাওয়ারট্রেন সেটআপ এক মসৃণ ও প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন পারফরম্যান্স দেয় যা শহরের রাস্তা আর হাইওয়ে, দুটো জায়গায় চালানোর পক্ষেই সুবিধাজনক।
ঠিক যেমনটা ক্রেতারা চান, এই গাড়ি তেমনটাই দিচ্ছে। অর্থাৎ ৩ বছরের সাধারণ ওয়ারেন্টি, যা রেনো সিকিওর প্রোগ্রামের সাহায্যে ৭ বছর / ঊর্ধ্বসীমাহীন কিলোমিটার চালানো পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যাবে। নাগাল বাড়াতে নতুন ট্রাইবার এখন সারা দেশে পাওয়া যাচ্ছে সরকার স্বীকৃত CNG রেট্রোফিটমেন্ট কিট সহ ৩ বছরের ওয়ারেন্টি সমেত।
ভারতে তৈরি ট্রাইবারের ইতিমধ্যেই এদেশে ১.৮৪ লাখ সুখী ক্রেতা রয়েছেন এবং পৃথিবীর এক ডজনের বেশি দেশে এই গাড়ি রফতানি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন ট্রাইবারের চেহারা আরও জমকালো, আরও বেশি ফিচারে সমৃদ্ধ এবং বহু চিন্তাভাবনা করে তৈরি প্রিমিয়াম প্রযুক্তি আপগ্রেডে সমৃদ্ধ। এতে ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য ডিজাইনভিত্তিক এবং মানুষকেন্দ্রিক উদ্ভাবনের প্রতি রেনোর দায়বদ্ধতা আরও একবার প্রমাণিত হল।
এই ব্র্যান্ডের শিকড় এদেশে বেশ গভীরে পৌঁছেছে। দেশজুড়ে ৩৫০+ বিক্রয় কেন্দ্র এবং ৪৫০+ পরিষেবা কেন্দ্র ছড়িয়ে পড়েছে। সম্পূর্ণ নতুন ট্রাইবারের আগমন রেনোর প্রোডাক্ট রিনিউয়াল কৌশলে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই কৌশলের লক্ষ্য বৈচিত্র্যময় এবং প্রতিযোগিতামূলক ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে নিজের যথাযথ স্থান অধিকার করা।
মডিউলারিটি ও বৈচিত্র্য
- মডিউলার সিটিংয়ে ইজি-ফিক্স সিট সহ ৫-৭ খানা আসন
- ২য় সারি – স্লাইড, রিক্লাইন, ফোল্ড ও টাম্বল
- ১০০+ সিটিং কম্বিনেশন
- ৫ আসনে ৬২৫ লিটার বুট স্পেস, যা এই শ্রেণির গাড়িতে সর্বোচ্চ
- ১৮২ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স
- ভিতরের স্টোরেজ – ২৩ লিটার
- ৫০ কেজি পর্যন্ত বহনক্ষমতাসম্পন্ন ছাদের রেল
- শ্রেণির সেরা ২য় সারিতে হাঁটু রাখার জায়গা – ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত
- শ্রেণির সেরা ৩য় সারিতে মাথা রাখার জায়গা – ৮৩৪ মিলিমিটার পর্যন্ত
- ২য় ও ৩য় সারির ভেন্ট সমেত পিছন দিকের আলাদা এসি
নতুন আধুনিক ডিজাইন
- নতুন ফ্রন্ট গ্রিল
- নতুন হুড
- নতুন ফ্রন্ট ও রিয়ার বাম্পার
- নতুন ফ্রন্ট ও রিয়ার স্কিড প্লেট
- নতুন ১৫ ইঞ্চির ল্যান্ডস্কেপ ডুয়াল টোন ফ্লেক্স হুইল
- নতুন সাইড ডেকাল
- নতুন LED প্রোজেক্টর হেড ল্যাম্প
- নতুন LED DRL
- নতুন LED টেল ল্যাম্প
- নতুন LED ফগ ল্যাম্প
- গাড়ির ৩ খানা নতুন রং – ৬ খানা মনোটোন ও ৩ খানা ডুয়াল টোন রংয়ের সম্ভার
- নতুন ড্যাশবোর্ড
- নতুন ইন্টেরিয়র ট্রিম অ্যান্ড হারমনি
- আসনের নতুন ফ্যাব্রিক – কোমল কালো এবং গ্রিজ বুনোটের আপহোলস্টরি
- আসনের নতুন ফ্যাব্রিক – চনমনে সম্পূর্ণ কালো বুনোটের আপহোলস্টরি
স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর জন্যে নতুন ফিচার
- অটো হেডল্যাম্প
- ৮ ইঞ্চি ডিসপ্লে লিংক সমেত ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন
- ওয়্যারলেস রেপ্লিকেশন
- জিনিসপত্র নিয়ে নামার রিমাইন্ডার
- ক্রুজ কন্ট্রোল
- অটো ফোল্ড ORVM সহ ওয়েলকাম গুডবাই সিকোয়েন্স
- বৃষ্টিপাত সম্পর্কে সজাগ ওয়াইপার
নতুন সুরক্ষা ফিচার
- সাধারণ মান হিসাবে ৬ খানা এয়ারব্যাগ
- সাধারণ মান হিসাবে আইসোফিক্স চাইল্ড সিট অ্যাংকরেজ
- সমস্ত আসনের জন্যে সাধারণ মান হিসাবে ৩-পয়েন্ট সিট বেল্ট
- শ্রেণির সেরা ফ্রন্ট পার্কিং সেন্সর
- ফলো মি হোম ফাংশন
