ওয়েব ডেস্ক; ৭ জানুয়ারি: সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীনে ৬৮তম বাহিনীর সীমা চৌকি মামাভাগিনার জওয়ানেরা তল্লাশি অভিযানে এলাকার একজন কুখ্যাত চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বাড়ি থেকে মোট ৪৩ কেজি গাঁজা ও ৩৭১ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে।

ঘটনাটি বাগদহ থানার অন্তর্গত নওদাপাড়া গ্রামের। ৬ই জানুয়ারী বিএসএফ নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পায় যে গ্রামের আলমগীর মন্ডল, সুখদেব মন্ডল, সুকুমার ও পবিত্রার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ফেনসিডিল রয়েছে এবং চোরাকারবারীরা তাহা বাংলাদেশে পাঠাতে চলেছে। সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া মাত্রই কোম্পানি কমান্ডার বাগদাদ থানায় খবর দেন। তারপরে, রাত্রি বেলায় জওয়ানরা গ্রামের সদস্যদের উপস্থিতিতে উল্লিখিত সন্দেহভাজন বাড়িগুলিতে হানা দেয়। তল্লাশিকালে আলমগীর মন্ডলকে তার বাড়ি থেকে ৪৩ কেজি গাঁজা ও ৩৭১ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়। ধৃত পাচারকারীর নাম আলমগীর মন্ডল, পিতার নাম সামসের মন্ডল গ্রাম নওদাপাড়া, জেলা উত্তর ২৪ পরগনা।

চোরাকারবারীকে নিয়ে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীরা জওয়ানদের উপর প্রাণ ঘাতক হামলা চালায়।

বিএসএফ জওয়ানরা যখন আলমগীর মণ্ডলকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তার সহযোগী চোরাকারবারীরা অতর্কিতভাবে লাঠি ও পাথর নিয়ে জওয়ানদের ওপর হামলা চালায়, এতে চারজন বিএসএফ জওয়ান গুরুতরভাবে আহত হন। কিন্তু বিএসএফের সাহসী জওয়ান চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে লড়াই করে চোরাকারবারী আলমগীরকে ধরে ফেলে। এর পরেই, জওয়ানরা আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জব্দকৃত মালামাল সহ আটক চোরাকারবারীকে সীমা চৌকি মামাভাগিনাতে নিয়ে আসে।

ঘটনাটি গভীর রাত পর্যন্ত চলে, দুষ্কৃতীরা বিএসএফের সম্পত্তি ভাংচুর করেছে।

ধৃত চোরাকারবারীর সহযোগী সহদেব রাই, কালকমান দফাদার, টোটাল মন্ডল, লাল্টু মন্ডল, রাজাক মন্ডল, হুসেন মন্ডল, জাহিদুল দফাদার, জাহান আলী মন্ডল এবং মিজানুর মন্ডল প্রথমে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালায়, তারপর সীমান্তে নজরদারি করার জন্য লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা, রেকর্ডার, কম্পিউটার এবং কন্ট্রোল রুম ভাংচুর করে বিএসএফের সম্পত্তির প্রচুর ক্ষতি করেছে । চোরাকারবারীদের রোষানলে, বিএসএফের অতিরিক্ত দল এবং বাগদাদ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করে এবং আহত জওয়ানদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে বাগদা হাসপাতালে পাঠায়। আহত জওয়ানের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাহাকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে।

দুর্বৃত্তরা সীমা চৌকিতেও অবরোধ করে

ঘটনাস্থল থেকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার পরে, উত্তেজিত জনতা চোরাকারবারীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মামাভাগিনা সীমা চৌকিতে ঘেরাও করে, কিন্তু বিএসএফ জওয়ানরা তাদের চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেয়।

ধৃত চোরাকারবারি এনসিবি-র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল, গত ছয় বছর ধরে সে পাচার করে আসছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে চোরাকারবারি জানায়, সে গত ৬ বছর ধরে এই ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। চোরাকারবারি এনসিবি তালিকায় কুখ্যাত কিন্তু এর আগে কখনও তাকে হাতেনাতে ধরা যায়নি। ধৃত পাচারকারী এবং জব্দ করা মালামাল এনসিবি, কলকাতায় হস্তান্তর করা হবে। এর পাশাপাশি, বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলাকারী এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্থ করা দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বাগদা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

কুখ্যাত চোরাকারবারীকে যারা সাহায্য করেছিল, তাদেরও শীঘ্রই ধরা হবে- ডিআইজি

সঞ্জয় কুমার, ডিআইজি আঞ্চলিক সদর দফতর, কৃষ্ণনগর বলেছেন যে বিএসএফ জওয়ানরা সর্বদা সীমান্তে সতর্কতার সাথে তাহাদের দায়িত্ব পালন করে এবং সীমান্তে অপরাধ বন্ধ করতেও ক্রমাগত সফল হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, বিএসএফের ক্রমাগত পদক্ষেপে চোরাকারবারি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হতবাক। তারা প্রতিশোধের স্পৃহা নিয়ে জওয়ানদের ওপর হামলা চালায় কিন্তু আমাদের জওয়ানদের মনোবল অনেক বেশি। তিনি আরও বলেছেন যে, পাচারকারীকে যারা সাহায্য করেছিল, তাহাদের আমাদের গোয়েন্দা দল সন্ধান করছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের ধরা হবে। সেই সঙ্গে তিনি কড়া ভাষায় বলেছেন য, বিএসএফ কোনো অবস্থাতেই সীমান্তে চোরাচালান হতে দেবে না।