বাসবদত্তা
সকালের ব্রেকফাস্ট করে নীলাদ্রি রোজ অফিস বেরিয়ে যায়। লাঞ্চটা অফিসেই করে। নিত্যদিন সকালের মেনু ব্রেড, বাটার, জ্যাম, ডিমসিদ্ধ, ফলের রসে একটুও ক্লান্তি আসে না মানুষটার! এমন সাহেবী কেতায় অভ্যস্ত সে। বিয়ের পর প্রথম প্রথম এসব তৃণার বেশ লাগত। তারপর রোজ রোজ সকালের টেবিলে এই একই ধরনের জলখাবার দেখে, খাবার ইচ্ছাটাই চলে গেল। এ বাড়িতে এসে অবশ্য পরিচিত শব্দবন্ধ ‘সকালের জলখাবার’ নয়, এখানে সেটা ব্রেকফাস্ট। ছোট জা সায়নী আসার পর থেকে আবার শুরু হয়েছিল জলখাবার, পরোটা আলুর তরকারী, শীতে কচুরী আলুরদম নাহলে নেহাতই রুটি তরকারী। ধীরে ধীরে দেখা গেল শাশুড়ি মা, তারপর শ্বশুরমশাইও এসে বৌমাদের ক্লাব জয়েন করলেন।
নীলাদ্রি হিমাদ্রি নট নড়নচড়ন। পাহাড়েরা কবেই বা নড়ে চড়ে বেড়ায়। সায়নী তৃণার মতন মুখচোরা নয়। যা ওর সঠিক মনে হয় সেই সব কিছুই সামনাসামনি বলে দেয় সে। তাই হয়ত তৃণার ওকে এত ভালো লাগে। তৃণা ইচ্ছে হলেও যা পারে না ও সেটা করে অনায়াসে। নীলাদ্রি অফিসে বেরিয়ে গেলে টুকিটাকি হাতের কাজ সেরে ছেলে বিতানকে ওঠায়, তাকে স্কুলের জন্য রেডি করে। ছেলে তার ল্যাপটপ নিয়ে স্কুলের ক্লাসরুমে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর সেই ফাঁকটাই তৃণার ‘মি টাইম’।
এই প্যানডেমিকে ছেলেটাকে স্কুলে পৌঁছানোর হ্যাপাটা নেই। তার ফলে বাঁচে আরো অনেকটা সময়। তবে বিতানের বয়সী বাচ্চাগুলো সব ঘরবন্দী হয়ে আছে কোভিড দৈত্যের ভয়ে, এটা ভাবলে বড্ড মনখারাপ লাগে তৃণার।
ক্রমশ…….
