বাসবদত্তা
চতুর্থ পর্বের পর…..
পিছনের একটা কাঠ বাদাম গাছে ওদের বাসা। তৃণা মা কাকটাকে নাম দিয়েছে শ্রীমতি আর ছোটটাকে মাস্টার বায়স।
সে বাচ্চা উড়বে না, পৌঁ, ধরে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে বসে থাকে। মা কাকটা এসে, এসে খালি গোঁত্তা মেরে যায়। ভাবখানা যেন-বাছা আমার, পাখায় একটু ভর দে দেখি। দেখ তো কি সুন্দর কুচকুচে ডানা দুখানা তোর।
সে বলে-ফুঃ এক্ষুনি আমি উড়ব না কিছুতেই। দেখে দেখে শিখছি ডানার ভাঁজ। উড়ব
তো যাব এক্কেবারে ওপরে। সব কাকেদের থেকে অনেক, অনেক ওপরে।
সে হবেখন। এখন পাশের গাছটায় যা দেখি।
এখন না। গম্ভীর গলায় বলেই ছোট ছোট পায়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গাছের ডাল। তাকে নড়ায় সাধ্য কি মায়ের। মা উড়ে যায় খাবার আনতে। কী আর করতে পারে বেচারি। তৃণা একাই হাসে আর অবাক হয়ে দেখে, কী অসীম ধৈয্য এক পক্ষী মায়ের। পরশু বিতানকেও লাঞ্চ ব্রেকে ডেকে দেখিয়েছে ওদের কান্ড। মাস্টার বায়স রোজ মায়ের ধাক্কা খেয়ে বাসা থেকে ছোট্ট ছোট্ট লাফে এসে বসবে একটা পাতলা ডালে। এটাই ওর সব থেকে ফেভারিট জায়গা। বসে বসে ঘাড় ঘুরিয়ে নজর রাখে এদিক ওদিক আর মায়ের এনে দেওয়া খাবার খায় লাল ঠোঁট ফাঁক করে।
তৃণা লক্ষ্য করেছে শ্রীমতির খুব পছন্দ দইভাত। নিজে দু গ্রাস গেলে আবার খাওয়াতে ছোটে ওটাকে। তৃণা রোজ একটা বাতিল ষ্টীলের থালায় খানিক দইভাত মেখে দিয়ে রাখে রেলিং এর উপর। আজকাল ভাত দিতে দেরি হলে রান্নাঘরের জানালায় এসে শ্রীমতি ‘কা ককা’ করে ‘ভাতের থালা কই’ জিজ্ঞেস করে যায়।
….. ক্রমশ….
