ওয়েব ডেস্ক; মেঘা ঘোষ: হাম একটি সংক্রামক রোগ অর্থাৎ বাড়িতে এবং স্কুলে একজনের এই অসুখ হলে প্রায় প্রত্যেকেই এই অসুখে আক্রান্ত হয়। বায়ু এবং নিঃশ্বাস দ্বারা এই রোগ সংক্রামিত হয়। এটি একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। যেহেতু এটা অসুস্থ রোগীর দেহ হাতে নিঃসৃত দূষিত বায়ু কণা প্রশ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ লোককে আলো করে।
লক্ষণ : রোগের প্রতিষেধক না নেওয়া থাকলে রোগ লক্ষণ প্রকাশের ১০-১৪ দিন আগে রোগী এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়।
প্রথমে সর্দি হয়, নাক ও চোখ দিয়ে কাঁচা জলের ন্যায় সর্দি নির্গত হয়, হাঁচি ও অত্যন্ত শুষ্ক কাশি থাকে। মুখ, চোখ লালবর্ণ, ফোলা ফোলা থমথমে দেখায়। জ্বর ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রী পর্যন্ত হয়। হামজ্বর প্রথমে অধিক হয়ে ২/১ দিনে ২ অথবা ১ ডিগ্রী নেমে আসে।
চতুর্থ দিনের দিন গায়ে হাম বা র্যাশ বের হয়। হামের র্যাশ বা উদ্ভেদ লাল, অসমান, ঘামাচির মত প্রথমে মুখে বের হয়। তারপর নীচে এবং শরীরের ত্বকে বাহ্যিক প্রকাশ পায়। শেষে হাতের তালু এবং পায়ের পাতাতে এসে শেষ হয়। এই হাম হচ্ছে মৃদু প্রকারের হাম এবং জ্বরের লক্ষণ প্রায় বিনা চিকিৎসায় নেমে যায়। কিন্তু একপ্রকারের কঠিন হাম হয় যাকে ম্যালিগন্যান্ট হাম বা রক্তস্রাবাধিকা হাম বলে। উহাতে সর্বশরীর রক্তবর্ণ দেখায়। নাক, মুখ, চোখ কিম্বা শরীরের অন্য কোন স্থান দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসে। এই অবস্থায় রোগী প্রায়ই মারা যায়। আরো একধরনের হাম জ্বর আছে। তাহাতে জ্বর খুব প্রবল হয়। হামের উদ্ভেদ তত বাহির হয় না অথবা বসিয়া যায়। রোগীর শরীর নীলবর্ণ দেখায়। নাড়ী অত্যন্ত দুর্বল ও ক্ষীণ হয়। বিকারের মত প্রলাপ বকে। ইহার চিকিৎসা খুব সাবধানে করতে হয়।
চিকিৎসা ও পথ্য:
উপরোক্ত লক্ষণগুলির একটি বা একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে সুচিকিৎসকের পরামের্শর জন্য স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাবেন। রোগীকে গরম জলে গা মুছিয়ে দিতে হবে। তাহাতে হামের উদ্ভেদ বের হতে সহায়তা করবে।
সদা – জ্বর ভোগকালীন – দুধ, বার্লি, সাগু ইত্যাদি, সহজপাচ্য খাবার। পেটের অসুখে ধ — ছানা এবং সহজ হজমযুক্ত খাবার দিতে হবে। দুধ নিষিদ্ধ।
ছবি : প্রতীকী
*ডাক্তারের পরামর্শ বাঞ্ছনীয় ।
