রাজকুমার শেখ
বিয়ের গন্ধটা এখনো মুছে যায়নি। গোটা বাড়ি জুড়ে বিয়ে বিয়ে গন্ধটা ভাসছে। তার প্রথম বিয়ের গন্ধর সঙ্গে এ বিয়ের গন্ধ অনেক ফারাক। সে গন্ধ আর কোনদিনই ফিরে আসবে না, নাজিম তার মনে জায়গা যতই করুক না কেন! তার মনের এখনো সালামতই আছে। তাকে সে ভুলে যাবে না। তার জীবনে জড়িয়ে থাকবে সালামত। তার প্রথম ভালবাসার একটি মানুষ। যাকে তার সব দিয়ে ভালবেসেছে। তার মনের প্রতিটি তন্ত্রীতে সে মিশে আছে। কেন যে সে মন থেকে যায় না? নাজিম যতটা এগিয়ে আসে সে তত বেশি যেন দূরে সরে যায়। রাতে তাকে আদরে আদরে ভরিয়ে দেয় নাজিম। যেন তার বুকের সমস্ত যন্ত্রণা সে শুষে নেবে। রেশমি কোনো বাধা দেয় না। নাজিম একসময় ঘুমিয়ে পড়ে, রেশমির ঘুম আসেনা। এক পাশ করে শুয়ে খোলা জানলা দিয়ে আকাশ দেখে। আকাশে কত তারা। তার মধ্যে হয়তো সালামতও আছে। ও সেই তারা খুঁজবার চেষ্টা করে। রাত বয়ে চলে। শিশিরের টুপ টুপ শব্দ সে শুনতে পায়। সালামতের শোবার ঘরের পাশেই একটি শিউলি গাছ ছিল। রাতে শিউলি ফুলের গন্ধে গোটা ঘর ভেসে যেত। ও অনেক রাত অব্দি গন্ধ অনুভব করত।
বেশ কয়েক দিন হল নাজিম অফিসের কাজে বাইরে। তাই ও খানিকটা একান্তে ভাববার সময় পেয়েছে। নাজিম ওকে এক্কেবারে ছেড়ে থাকতে পারে না। বাইরে থেকেও বারবার ফোন করে খোঁজ নিচ্ছে। রেশমি দু একটা কথার উত্তর দেয়। ফোনের ওপাশে নাজিম এক নাগাড় কথা বলতে থাকে। রেশমি ফোনটা কানে চেপে ধরে থাকে। সময় চলে যায় অনেকটা। রেশমি এক সময় কাজের দোহাই দিয়ে ফোন ছেড়ে দেয়। এখন এই ঝকঝকে সকালে রেশমি শুধুই ভাবতে চায় সালামতের কথা। খোলা জানলা দিয়ে সূর্যের রক্তিম লালি দেখা যাচ্ছে। ও বিছানায় শুয়ে শুয়ে মিষ্টি সকাল দেখছে। নাজিমকে বিয়ে করবার পর এই প্রথম ও এত সুন্দর একটি সকাল পেয়েছে। যে সকালে পাখিদের গান আছে। শীতল বাতাস আছে। কিন্তু একটা কি যেন নেই। বুকের বাঁধন ছিঁড়ে চলে গেছে যে মানুষটি। বার বার হানা দেয় তার মনে। মনটা বড়ই পাগলা। সে কখনো ভালোবাসার মানুষকে ভুলতে পারে না। সে আকাশের মতো হতে চায়। মেঘ জমবে কিন্তু সেই মেঘ সরে গিয়ে রোদ উঠবে। কিন্তু তা তো হলো না তার জীবনে। তার মনে এখন মেঘের জমাট অন্ধকার।
হঠাৎ করে জুয়েলারি সেই ছেলেটির কথা মনে পড়ে। ওর কাছে তো তার যাওয়া দরকার। ও মনে মনে কেমন বিচলিত হয়ে পড়ে। না- ওকে এবার যেতেই হবে।
