ডা চন্দ্রগুপ্ত
অনেকক্ষণ থেকে বিনোদ একটা বাঁশ দিয়ে কাৎ হয়ে যাওয়া ঘরের চালটাকে সোজা করার চেষ্টা করছিল। বছর চল্লিশের দোহারা চেহারাটা ঘামে ভিজে একসার। কিন্তু কাজে বিরাম নেই। খড় দিয়ে গত শীতে চালটা ঢেকেছিল। কিন্তু বুধবারের ঝড় বৃষ্টিতে কঞ্চকিরো গ্রামের অনেকের মত ওর ঘরটারও ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। তবে বেশী পুরোনো না হবার জন্যে বিনোদের তেমন ক্ষতি হয়নি।
‘আজ রবিবার, স্কুল ছুটি। তাই সকাল থেকেই নেমে পড়েছে বাড়ির কাজে। হাতে থাকা বাঁশটাকে মাটিতে রেখে ভরতকে ডাক দিল। এটি বিনোদের বড় সন্তান।
— এ সপ্তাহে রেশনে কেরোসিন তেল দেবে বলেছিল। কামতা কাকার দোকানে তেলের টিনটা নিয়ে একবার যা তো ভরত।
কঞ্চকিরোর মতো ছোট ছোট গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা আছে। কিন্তু ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ পৌঁছোয়নি, ফলে কেরোসিন দিয়ে হ্যারিকেন অথবা কুপিই এদের ভরসা। তাছাড়া কাঠের উনুন জ্বালতেও রোজ কেরোসিন লাগে।
ক্রমশ…..
