২০২০ সালটা শুধু ভারত বর্ষ নয় সারা বিশ্বের কাছে এক অভিশপ্ত বছর। করোনা মহামারী ভারতবর্ষ সহ সারা বিশ্বে নিজের থাবা বসিয়েছে। গতবছর মার্চ মাসে থেকে সারাদেশ লকডাউনে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল জনজীবন । সেই সময় বহু মানুষ হারিয়ে ছিলেন তার রুটিরুজি।


করোনা যেমন মানুষকে নেগেটিভ দিকে নিয়েগেছিল তেমনভাবেই মানুষের মধ্যে এসেছিল সচেতনতা। রুটিরুজিহীন এবং করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বহু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মানুষই।
দক্ষিণ কলকাতার এক বিলাসবহুল আবাসন কমিটির – গ্রীনফিল্ড সিটি ফাউন্ডেশন করোনা কাল থেকেই এলাকার মানুষ এবং সাধারন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। স্যানিটাইজেশন, মাস্ক বিলি তার সাথে যারা রুটি রুজি হারিয়েছেন তাদের ত্রাণ বিলি সবকিছু নিয়েই এক নজির গড়েছে এই আবাসনের গ্রীনফিল্ড সিটি ফাউন্ডেশন।


করোনা ভ্যাকসিন যখন দেশে দেওয়া শুরু হলো তখন থেকেই এই আবাসন পশ্চিমবঙ্গের সর্বপ্রথম ও সুবৃহৎ আকারে আবাসনের সকল অধিবাসীদের জন্য ভ্যাকসিন দেওয়া এক বিপুল কর্মযজ্ঞ শুরু করে দেয়।
পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর, কলকাতা করপোরেশন এবং দমকলের সাথে অনবরত যোগাযোগ রক্ষা করে সম্পূর্ণ আবাসন এবং আশেপাশের সমস্ত অঞ্চল কে স্যানিটাইজেশন এর ব্যবস্থা করে এক অনন্য নজির গড়েছে তারা।
এতকিছুর পরও তারা প্রচার এর আলোতে আসতে নারাজ। কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি অর্ণব সরকারের বক্তব্য কাজ করছি মানুষের জন্য তাই প্রচারের আলোতে এসে সেই কাজকে ছোট করবো না। শুধুমাত্র আবাসিকদের জন্য নয়, এই আবাসনে কর্মরত সকল সুপার স্প্রেডার কর্মচারীদের জন্যও সরকারের সহায়তায় খুব শীঘ্রই বিনামূল্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থ্যা করতে চলেছে গ্রীনফিল্ড সিটি ফাউন্ডেশন। আগামী দিনে এই ধরনের কাজ এবং ভ্যাক্সিনেশনকে আরো বিপুল মাত্রায় করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন তারা।
আবাসন এই ক্যাম্প করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করে তারা অধিবাসীবৃন্দদের ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে আবার তারা ভ্যাকসিনেশনের অষ্টম ক্যাম্প করবেন এবং তার সাথে শয্যাশায়ী ও বিকলাঙ্গ আবাসিকদের জন্য ফ্ল্যাটের দোরগোড়ায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেবেন বলেও জানিয়েছেন গ্রীনফিল্ড সিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৌরভ চন্দ্র।
আগামী দিনে এই ভাবেই মানুষের পাশে থাকবেন বলেও জানান সৌরভ বাবু।