ডা. চন্দ্রগুপ্ত

খোলা আকাশের পানে (১ম পর্ব )

তাই মুক্তি চাই এই আবদ্ধ ঘর থেকে, মুক্তি চাই এই কঠিন নিয়ম শৃংখলার জীবন দর্শন থেকে। কখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, কখনো রাজ্য সরকার, কখনো কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক নিয়ম লাগু করে গেছে মানুষের প্রয়োজনে, মানুষের উপরে। তাই নিয়ে তৈরি হয়েছে সমালোচনা। চুলচেরা বিশ্লেষণে কিছু লোক এই বিধিনিষেধের বিপক্ষে সরব হয়েছেন চুপি চুপি। আবার কেউ কেউ এই নিয়ম শৃঙ্খলা গুলোকে জীবনের অন্যতম একটি অংশ বলে মেনে নিয়েছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা সকলের পক্ষে আবশ্যক। কিন্তু শিশু-কিশোর যে এই বিধি নিষেধের ধার ধারে না। তারা মুক্তি চেয়েছে। এ যেন মনের আনন্দে আকাশে উড়ে চলা নাম-না-জানা পাখিদের আকাঙ্ক্ষিত কলতান শোনার জন্য মুক্তি।

সেই মুক্তি আসবে হয়তো। তবে অনেক শর্ত সাপেক্ষে। শর্ত আমরা হয়তো মেনেও নেব। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের গবেষক বৈজ্ঞানিকরা হুঁশিয়ারি শোনাচ্ছেন, ‘তৃতীয় স্তরের করোনা খুব শিগগিরই আসছে পৃথিবীর বুকে’। কোন কোন দেশে শুরু ও হয়ে গিয়েছে।

একটি প্রচলিত কথা আছে। যদি কোন একটি নির্দিষ্ট কাজ ২১ দিন অবধি নিয়মিতভাবে কেউ করে যায়। তবে সেটি তাঁর অভ্যেসে পরিণত হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধির যে নিয়ম-নীতি আমরা কুড়ি সালের মে মাস থেকে মেনে চলছি, সেটি কিন্তু ১০ থেকে ১২ শতাংশ মানুষই শুধু মেনে চলবে আগামী দিনে।

তবে অন্য একটি কঠিন সত্য হল এই, শহর কলকাতার বায়ুদূষণ যে পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে সে ক্ষেত্রে যদি আমরা মাস্ক ব্যবহারকে অভ্যেসে পরিণত করি, তবে হয়তো কলকাতা শহরের ফুসফুসের ক্যান্সারের সংক্রমণের হার একেবারেই কমিয়ে আনতে পারব।

আরে বাবা, স্বাস্থ্য আমাদের হাতেই রয়েছে। তা সে জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করাই হোক, অথবা ডায়েটিশিয়ানের থেকে ডায়েট চার্ট এনে হোক, অথবা সরকার স্বীকৃত স্বাস্থ্য মেনে চলাই হোক। কিন্তু শৈশব-কৈশোর-যৌবন-বার্ধক্য শুধুই মুক্তি চায়, ডানা মেলে উড়তে চায় খোলা আকাশে।