ডা. চন্দ্রগুপ্ত
ওরা আমাদের স্বপ্নের ফসল। বাস্তবে তাই ওদের ঘিরেই আমাদের ভবিষ্যতের চিন্তা। ওদের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় করতে আমাদের চেষ্টারও অন্ত নেই। কিন্তু কখনো কখনো সমাজের বাহ্যিক পরিস্থিতিতে আমাদের যেমন হাত-পা বাঁধা হয়ে থাকে, তেমনি ওদের হাত-পা ও বাঁধা পড়ে যায় আমাদের কাছে। ওরা ওদের স্বপ্নের ডানা মেলে উড়তে চায় আকাশে, আমরাও চাই। কিন্তু একটা দৃশ্যমান অথচ অদৃশ্য সুতো আমাদের সবাইকে বেঁধে রেখেছে। এখানে শিশুদের কথা বলা হচ্ছে।
অতিমারির আক্রমণে সারা বিশ্বের সমস্ত মানুষদের হাত-পা আটকে দিয়েছে। আমাদের কথা বলা, মেলামেশা, দৈনন্দিন কাজকর্মের ক্ষেত্রে একটা লিখিত বন্ধন তৈরি হয়েছে, একটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে আমাদের সবার মনে।
অতি নিকট আত্মীয়, কিন্তু তাদের কেউ আমরা যেন মন থেকে মেনে নিতে পারছি না। তাদের সামান্য শরীর খারাপ হলেই আমাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিজেদের এবং আরো নিকটজনদের সংক্রামণের ভয়ে পালিয়ে আসছি তাদের কাছ থেকে। বাস্তবে এই অতিমারি আমাদের নতুন করে চিনতে সাহায্য করেছে কঠিনের এই জগতকে।
যে শিশুর কাছে তার বাবা-মায়ের নিত্যকলহ গোপন থাকতো, এই লকডাউনে তা একেবারে খোলামেলা হয়ে গেল। হাঁপিয়ে উঠলো শিশু, হাঁপিয়ে উঠেছি আমরাও। বিবাহিত নারী পুরুষের মধ্যেও একই রকম ভাবে অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা বেড়ে উঠছে। সবাই যেন বাইরে বেরোতে চাইছে যেভাবেই হোক।
রোজদিন কাজের প্রয়োজনে স্বামী বাইরে যাবে। সেটা স্বাভাবিক বলে এতগুলো বছর জেনে এসেছে তার স্ত্রী। বাবা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাবে সেটা জেনে এসেছে তার ছেলে মেয়ে। কিন্তু সেই বাবা যখন দীর্ঘ মাসে ঘরে বসে, তখন কিন্তু সম্পর্কের সেই মসৃণ আবেগটা অনেক বেশি আলগা হয়ে গেল।
ছবি: অঞ্জন সরকার
