ডিজিটাল; ২৩মে: কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল বলেছেন, আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নত গুণমানের এবং জৈব চায়ের দিকে নজর বাড়ছে। অতএব, চায়ের দীর্ঘস্থায়ী উৎপাদনের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয় আন্তর্জাতিক চা দিবসে শনিবার (২১ মে ২০২২) টি বোর্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল ভাষণে মন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের কাছে চা-কে আরও আকর্ষণীয় পানীয় হিসেবে তুলে ধরার ওপর জোর দেন যাতে ভবিষ্যতে চায়ের ব্যবহার বাড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নত মানের চায়ের সরবরাহকারী হিসেবে ভারতকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর-ও জোর দেন তিনি।
টি বোর্ড ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান সৌরভ পাহাড়ি তাঁর ভাষণে বলেন, গ্রাহকদের পছন্দের ধরন পাল্টানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চা শিল্পে নতুন ভাবনার প্রয়োজন আছে। চা সম্পর্কে ভাবমূর্তি বর্তমান ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে যাতে তা গ্রাহকদের কাছে বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কোভিড অতিমারীর সময়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য শিল্পের ভূমিকার তিনি প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, কঠিন সময়ে শিল্প উল্লেখযোগ্য দৃঢ়তা দেখিয়েছে।
টি বোর্ড ইন্ডিয়া ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় একটি আলোচনা চক্রের-ও আয়োজন করে (হাইব্রিড মাধ্যমে) শনিবার তৃতীয় আন্তর্জাতিক চা দিবস উপলক্ষ্যে। রাষ্ট্রসংঘের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি অবশ্যই একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান।
রাবার বোর্ডের কার্যনির্বাহী অধিকর্তা এবং এমপিইডি-র চেয়ারম্যান এবং টি বোর্ড ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান ডঃ কে এন রাঘবন তাঁর ভাষণে বলেন, ভারত বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদন করে। ভারতীয় চা শুধুমাত্র একটি পানীয় নয়, এটি ভাবাবেগ এবং জীবনধারার-ও পরিচায়ক। তিনি চা শ্রমিকদের সম্মানে পেয়ালা তুলে ধরেন। এইসব শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের প্রতিদিন চায়ের কাপ পেতে সাহায্য করে, বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনটি অধ্যায়ে আলোচনা চক্রের ব্যবস্থা ছিল। চা ক্ষেত্র এবং অভ্যন্তরীণ চায়ের প্রসারে দীর্ঘস্থায়িত্বের সমস্যা এবং শংসাপত্রের জন্য বাণিজ্য এবং আগামীদিনের বিপণনের সমস্যা এবং ছোট চা উৎপাদকের টিকে থাকার সমস্যা- এই ছিল তিনটি বিষয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্যায়ে অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আইটিএ-র চেয়ারপার্সন শ্রীমতী নয়নতারা পাল চোধুরী এবং ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ- পশ্চিমবঙ্গের প্রযুক্তি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব ডঃ কৃষ্ণ গুপ্ত, গুডরিক গোষ্ঠীর এমডি অতুল আস্থানা, সলিডারিডাড এশিয়ার এমডি ডঃ শতদ্রু চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এবং সুন্দর পানীয় চা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে কাগজের বিজ্ঞাপন, রেডিও, মোবাইল, এসএমএস, স্টলে স্টলে চায়ের নমুনার মাধ্যমে বিপণন, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিযোগিতা, ভারতীয় চা সঙ্গীত প্রতিযোগিতা, ভারতীয় চা শীর্ষক বিশেষ কাপ প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়।
গুণমান-ই প্রাথমিক বিষয়, যার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চায়ের নাম। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে টি বোর্ড ইন্ডিয়া বিভিন্ন চা বাগানে বিশেষ চা তোলার কর্মসূচির(সীমিতভাবে) আয়োজন করে। এই চায়ের বিশেষ নিলাম হবে এ বছর জুন মাসে বিভিন্ন নিলাম কেন্দ্রে।
