সজল কান্তি দাশ গুপ্ত
সকাল থেকে সুকুমারের ব্যস্ততার শেষ নেই, যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়তে চায়। আগে পৌঁছতে পারলে বেশি বিক্রি। আজ প্রধানমন্ত্রী আসছেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। কয়েক লক্ষ লোকের সমাগম হবে আজ ব্রিগেডে। গ্রাম থেকে প্রচুর লোক আসবে। ‘ঘটি গরম’ বেঁচে সংসার চালায় সুকুমার। কলকাতার বাস স্ট্যান্ড গুলোতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে। তবে আজ সোজা চলে যাবে ব্রিগেডে। একটু বেশি করে মাল নিয়ে বের হবে সে আজ। সব মাল বেচে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসবে।
এভাবেই ভোটকে কেন্দ্র করে মিটিং-মিছিলে একদল মানুষের জীবনের সাময়িকভাবে খুশির ঝলক নিয়ে আসে। দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যাদের সংগ্রাম করতে হয়, প্রতি মুহূর্তে যাদের অস্তিত্ব সংকটময়, সেইসব খেটে খাওয়া মানুষেরা সর্বদাই বঞ্চিত হয় রাজনীতিকদের দ্বারা। ভোটের আগে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি গুলো কখনোই পালিত হয় না ভোটের পরে। ফলে সমাজের এই মানুষগুলোর জীবন সবসময় থাকে সংকটময়। ভোট তাদের জীবনে বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। তবু তারই মধ্যে ভোট প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে সাময়িক খুশির বার্তা নিয়ে আসে।
কোভিডকে কেন্দ্র করে লকডাউন বহু মানুষকে কর্মহীন করে তুলেছে। কিন্তু ভোট এমনই বহু কর্মহীন মানুষকে অল্প কিছুদিনের জন্য হলেও কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। আমার পরিচিত একটি ছেলে টেক্সটাইলস ডিজাইনের কাজ করতো। কিন্তু লকডাউনে তার কাজ চলে গিয়েছিল। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সে চরম আর্থিক সংকটে আজ। ভোটের বাজারে সে এখন দেওয়াল লেখে, আয় মন্দ হয় না।
ভোটের বাজারে আয় বেড়েছে ব্যবসায়ীদের যারা ফ্লেক্স বানায়। কথা হচ্ছিল মনোজ এর সাথে, ওর একটা ফ্লেক্স প্রিন্টিং মেশিন আছে। লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় ছেড়ে দিতে হয়েছিল তার দুজন কর্মচারীকে। কিন্তু ভোটে কাজ বাড়ায় আবার তারা কাজে বহাল হয়েছে। একই রকমভাবে ছাপাখানা গুলোর ব্যস্ততার শেষ নেই। পোস্টার-লিফলেট- বুকলেটের অনেক কাজ করেছে ছাপাখানা। বেড়েছে কর্মীসংখ্যা, কাজ পেয়েছে কিছু বেকার যুবক।
ক্রমশ……
