ডিজিটাল; দেবাঞ্জন দাস; ২৮ মে: পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরে কমপক্ষে ৮ লক্ষ মানুষ মারা যান শুধুমাত্র সিগারেট বিড়ির মতন তামাকজাত পদার্থকে স্বেবন করে। আগামী ৩১ মে ‘ওয়ার্ল্ড নো টোব্যাকো ডে’। তা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন নারায়ন সুপারস্পেস্যালিটি হাসপাতালের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল অংকোলজিস্ট ডাক্তার বিবেক আগারওয়াল। তিনি আরো জানান হৃদ রোগ এবং অন্যান্য মারণ অসুখে আমাদের দেশে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন, দিনে ২২০০ জন মারা যান।
ডা. বিবেক আগারওয়ালের কথায় টোব্যাকোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৫০০ রকম এর কেমিক্যাল। সরাসরি যারা ধূমপান করেন তাদের থেকে অনেক বেশি শরীরের ক্ষতি হয় যারা পরোক্ষভাবে ধূমপান করেন। শুধুমাত্র ধূমপানে শরীরের ক্ষতি শুধু হয় না , হয় পরিবেশের ক্ষতি ও। সরকারের পক্ষ থেকে ধূমপান এবং তামাক জাতীয় পদার্থ সেবনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম কানুন আনতে হবে। যার ফলে কোন ব্যক্তি ধূমপান করার আগে সেই বিষয়ে অবগত থাকেন। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তামাক জাতীয় পদার্থ যখন বিজ্ঞাপনে আসছে তখন দেশের অনেক পরিচিত ব্যক্তি বা সেলিব্রিটি সেই তামাকজাত পদার্থের বিজ্ঞাপন করছেন।

উল্লেখ্য হেড এন্ড নেক ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৯০% সময় দাই হয় তামাক। আবার এর মধ্যে প্রধান হলো ওরাল অথবা মুখের ক্যান্সার। ভারতীয় উপমহাদেশে সবথেকে বেশি জর্দা, গুটকা কিংবা পান মশলার মতন মুখে রাখার তামাক জাতীয় পণ্যের নেশা করা হয় বলে ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্তদের সংখ্যা একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে ভারতবর্ষ।

বলাই বাহুল্য সিগারেটের ধোঁয়া থাকে সেই ধোঁয়া সঙ্গে নিকোটিন ছাড়াও বেনজিন এবং বিভিন্ন ধরনের নাইট্রাস আমিন ক্যাডমিয়াম সহ বিভিন্ন ধাতুর ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ অজান্তেই নিজের শরীরে টেনে নেন ধূমপায়ীরা। এর মধ্যে অন্তত ২৮ টি কারসিনোজেনিক বা ক্যান্সার উদ্দীপক থাকে। এই সমস্ত তামাক জাতীয় দ্রব্য এর ফলে যেমন হয় ক্যান্সারের মতো রোগ তেমনি আবার হৃদরোগের মতন রোগ হতে পারে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত আরেকজন চিকিৎসক ডা. চন্দ্রকান্ত এমভি বলেন অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সারের কারণ সম্পর্কে আমরা জানতে পারিনা। কিন্তু তামাক জাতীয় দ্রব্য থেকে যে ক্যান্সার হয় সেটা আমরা প্রায় সকলেই জানি। তাই এই সমস্ত উপাদান যেগুলো দিয়ে ক্যান্সার হয় তা না খাওয়াই মঙ্গলকর। হয়তো ধূমপান এবং অ্যালকোহল খাওয়ার পরে মানুষ কিছুটা পরিমাণ স্বস্তি অনুভব করে, কিন্তু সেটাই স্বাস্থ্যের পক্ষে প্রচন্ড ক্ষতিকারক। ধূমপান হলো অন্ধকার একটা গহবর। ধূমপায়ীরা নিজের ইচ্ছায় ধূমপান ছাড়তে পারেন অথবা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন তার আশেপাশে থাকা মানুষ এবং পরিবার।

উপস্থিত দুজন ডাক্তারবাবু অকপটে স্বীকার করে নেন তামাক জাতীয় পদার্থ এবং অ্যালকোহল জাতীয় তরলের থেকে দেশ এবং রাজ্যে বৃহৎ পরিমাণে রাজস্ব আসছে ঠিকই। কিন্তু এর ফলে মানব শরীরে এক ভয়ংকর অন্ধকার নেমে আসছে এটাও মাথায় রাখতে হবে – এ কথাও উল্লেখ করেন ডাক্তারবাবুরা।