ওয়েব ডেস্ক; ২৮ আগস্ট: ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) উত্তরপূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালায় । নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসাম ও মিজোরামে দুটি পৃথক অভিযানে মোট ৭৬ কেজি মেথামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে এই সংস্থা। ১৯৮৫ সালের ‘নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্টেন্সেস (এনডিপিএস) আইনে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিআরআই-এর আধিকারিকরা ২৫শে আগস্ট আসাম রাইফেলসের শিলচরে থাকা ৩৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের সহায়তায় আসাম-মণিপুর সীমান্তের কাছে শিলচর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে লালপানিতে একটি সন্দেহভাজন ১২-চাকার ট্রাক আটক করেন। ট্রাকটি মণিপুরের জিরিবাম থেকে আসছিল।
তল্লাশি করার সময় চালকের আসনের পেছনে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন প্রকোষ্ঠ বা খোপের সন্ধান মেলে। ওই প্রকোষ্ঠে ৩৬টি ইটের মত প্যাকেট (প্রতিটির ওজন ১ কেজি) এবং ১০০টি ছোট প্যাকেট (প্রতিটির ওজন ২০০ গ্রাম) পাওয়া যায়। সেগুলিতেই গোলাপি-কমলা রঙের মেথামফেটামিন ট্যাবলেট ছিল।
ফিল্ড ডিটেকশন কিট ব্যবহার করে নমুনাগুলির প্রাথমিক পরীক্ষায় অ্যাম্ফিটামিনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। উদ্ধার করা ৫৬ কেজি ওজনের নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য এবং ট্রাকটি এনডিপিএস (NDPS) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বাজেয়াপ্ত করা হয়। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, মিজোরামের আইজল-চাম্পাই সড়কে ১৮ তারিখে আরেকটি অভিযানে, ডিআরআই-এর আধিকারিকরা আইজল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বুং বাংলা অঞ্চলে একটি গাড়ি আটক করেন। গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ কেজি ওজনের গোলাপি-কমলা রঙের মেথামফেটামিন ট্যাবলেট ভর্তি ৬৪টি বিভিন্ন আকারের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এই প্যাকেটগুলি গাড়ির দুই পাশের রকার প্যানেল বা সাইড সিলের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গভীর প্রকোষ্ঠে এবং ফুয়েল ট্যাঙ্ক ও গাড়ির মেঝের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় লুকিয়ে রাখা ছিল।
এনডিপিএস ফিল্ড টেস্ট কিট ব্যবহার করে পরীক্ষায় অ্যাম্ফিটামিনের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, এই মাদক মিয়ানমার থেকে জোখাওথার-চাম্পাই সীমান্ত সড়ক দিয়ে মিজোরামে পাচার করা হয়। এনডিপিএস আইনে ২০ কেজি নিষিদ্ধ মাদক এবং ওই মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গাড়িটির চালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মেথঅ্যাম্ফিটামিন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এটি নেশার সামগ্রী হিসেবে অপব্যবহার করা হয়। এর অবৈধ সেবনের ফলে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীতে নানা রকমের সমস্যা হয়।এ ছাড়াও অহেতুক সন্দেহপ্রবণতা এবং সাইকোসিস-এর মতো গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন অপব্যবহারের ফলে এর প্রতি তীব্র আসক্তি তৈরি হয় এবং স্নায়বিক ও আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। এনডিপিএস আইনে মেথঅ্যাম্ফিটামিনকে একটি ‘সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স’ বা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর অবৈধ উৎপাদন, সংগ্রহ করে রাখা, পরিবহন ও পাচারের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
